ভ্রমন কাহিনী

অদেখা বাংলার রূপ টাঙ্গুয়ার হাওর

“টাঙ্গুয়ার হাওর” বাংলাদেশের ২য় রামসার সাইট। বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষায় “রামসার কনভেনশন” একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ইরানের রামসারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসমূহ কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস নামক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। পরবর্তিতে এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১৫৮টি দেশ স্বাক্ষর করে এবং পৃথিবীর ১৬৯ মিলিয়ন হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ১,৮২৮টি স্থান আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন, দ্বিতীয়টি টাঙ্গুয়ার হাওর। হাকালুকি হাওরকে রামসার সাইট ঘোষনা করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের মূল আয়ন ৬৯১২ একর। তবে বর্ষাকালে এর আয়তন দাঁড়ায় ২০,০০০ একর। কিছুদিন আগে (মে ২০১৭) আগাম বন্যায় হাওরের সব এলাকায় ধান সহ ডুবে যায় তখন হাওরে গেলাম প্রথমবার। তবে ঘুরতে যাওয়া হয়নি। ঢাকায় ফিরে শুধু মনে হচ্ছিলো কবে ঘুরতে যাবো। খুব দ্রুতই আয়োজন করে ১০-১২ জন মিলে ঘুরতে গেলাম।

ট্যুর প্ল্যানঃ

টাঙ্গুয়ার হাওরের বেস্ট ট্যুর প্ল্যান দিচ্ছি। যেকোন দিন রাতের বাসে চলে যান সুনামগঞ্জ সকাল ৭টার মধ্যে পৌছে যাবেন। তারপর নাস্তা করে সিএনজি নিয়ে চলে যান তাহিরপুর ১ ঘন্টা লাগবে। নৌকায় ওঠার আগে ২দিন ১ রাতের সব বাজার করে নিন মাছ ছাড়া। নৌকা ছেড়ে দিন ৯-১০ টার মধ্যে। নৌকা নিয়ে সোজা চলে যান ওয়াচটাওয়ার এর এখানে।

সুন্দর জলাবন আছে, ছোট ছোট নৌকা নিয়ে অনেক বাচ্চাদের ঘুরতে দেখবেন তাদের থেকে সামান্য টাকায় ছোট নৌকায় হাওর ঘুরতে পারবেন গোসল করতে পারবেন। জলাবনে ছবি তুলতে পারবেন। ওয়াচটাওয়ার এর এখানে রান্না করে খেতে পারেন আবার, অন্য কোথাও করতে পারেন। ওয়াচটাওয়ার দেখে হাওরে মাঝে চলে যান, বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখে দুপুরের পর টেকেরঘাট এর দিকে রওনা দিন। ধীরে ধীরে দেখতে পারবেন কত স্বচ্ছ পানি। হাওরের তলা দেখতে পারবেন।

টেকেরঘাট গিয়ে নীলাদ্রি লেকে গোসল করতে পারেন। রাতটি এখানেই হাওরে নৌকা বেধে কাটিয়ে দিন নৌকার মধ্যে। পরদিন সকাল সকাল রওনা দিন যাদুকাটা নদী, বারিক্কাটিলা দেখতে।টেকেরঘাট থেকে হোন্ডা ভাড়া করে যেতে পারবেন (অবশ্যই ভাড়া ঠিক করে যাবেন), আবার নৌকা নিয়েও যাওয়া যায় তবে, অনেক দূর বিধায় মাঝি ৩০০০-৪০০০ টাকা বেশি চাবে (নৌকা ভাড়া করার সময় মাঝিকে বলে নিবেন নৌকায় যাদুটাকা নিয়ে যেতে হবে)।

যাই হোক, ওখান থেকে দূপুরের মধ্যে ফিরে এসে লাঞ্চ করে হাওর ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যার আগে তাহিরপুর চলে আসেন। তারপর, আবার সিএনজি নিয়ে সুনামগঞ্জ এসে বাসস্ট্যান্ড চলে যান। বাসের টিকেট কেটে তারপর সময় কাটাতে চলে যেতে পারেন কাছেই একটা পার্কে, নদীর পাড়ে বসে সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।

কিভাবে যাবেন? 

টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে হবে প্রথমে যেতে হবে সুনামগঞ্জ। ঢাকা থেকে হানিফ, শ্যামলি, এনা, মামুন পরিবহন সহ নানা ধরনের বাস সার্ভিস আছে। নন এসিতে ৫৫০ টাকা ভাড়া হবে ঢাকা টু সুনামগঞ্জ। তারপর বড় ব্রীজের গোড়ায় এসে পার হেড ১০০ টাকায় সিএনজি নিয়ে চলে যান তাহিরপুর। সেখানে আছে নৌকা ঘাট। যে কাউকে বললেই ঘাট দেখিয়ে দিবে। এখানে এসে সাইজ এবং সুবিধা অনুযায়ি নৌকা ভাড়া করে হারিয়ে যেতে পারবেন টাঙ্গুয়ার হাওরে।

কোথায় থাকবেন? 

হাওরে থাকার মতো তেমন জায়গা নেই। সবাই রাতে নৌকাতে থাকে। তবে যদি ঘর ভাড়া চান। তাহলে হাওর বিলাশ নামে একটি কাঠের বাড়ি আছে যারা সল্প মূল্যে রুম ভাড়া দিয়ে থাকে টেকেরঘাট এলাকায়। এখানে থাকতে যোগাযোগ করতে পারেন খসরু ভাই এর সাথে 01735464481 এই নাম্বারে। আর যদি তাবুতে থাকাতে চান সেই ব্যবস্থা ও আছে 01748972158 (সোহাগ)

নৌকা/ মোটর সাইকেল ভাড়া

হাওরে নৌকা দেখে শুনে ভাড়া করতে হয়। অবশ্যই বাথরুম আছে কিনা দেখে নিবেন। টিনের ছাদের থেকে বাশের ছাদে বসে আরাম এবং গরম হয় না দেখে শুয়ে বসে থাকা যায় সারাদিন আরামেই। ছোট নৌকা গুলো ১৫০০-২০০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ভাড়া পাওয়া যায়, মাঝারি নৌকা গুলো ২৫০০-৩৫০০ টাকা দৈনিক, আর বড় নৌকাগুলো ৩৫০০-৫০০০ টাকা দৈনিক। যদি ২ দিন ১ রাত থাকতে চান বড় নৌকাগুলো নিবে ৭০০০-৮০০০ টাকা। রান্না নৌকার লোক করবে / বাবুর্চি নিয়ে নিতে বলবেন এর খরচ নৌকার ভাড়ার সাথে এড করে নিবেন। নৌকার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন পরাণ মাঝি 01718168314 এই নাম্বারে। দাম দর করে নিবেন আগে।

খাবো কি? 

হাওরে খাওয়ার মতো আছে ২০-২৫ প্রজাতির হাওরের মাছ। তাহিরপুর যেয়ে নৌকায় উঠার আগে বাজারে যেয়ে যেই কয়দিন থাকবেন সেই কয়দিনের বাজার করে নিবেন। মাছ বাজার থেকে না কিনে হাওরে মাঝে অনেক বাজার পাবেন যেখানে তাজা মাছ পাওয়া যায়। সেখান থেকে কিনবেন। পাওয়া যায় দেশি হাস এবং দারুন শুটকি।

খরচ কেমন?

বাস ভাড়া ৫৫০ টাকা, আসা যাওয়া ১১০০ টাকা। নৌকা ভাড়া ২ দিন ১ রাতের জন্য ৮০০০ টাকা (২০জনের জন্য পারফেক্ট) জনপ্রতি দাঁড়ায় ৪০০ টাকা। খাবার প্রতিবেলা ২০০ টাকা ধরলে খাবার খরচ দাঁড়ায় ৮০০ টাকা (৪ মিল), নাস্তার জন্য ১০০ টাকা (২ মিল), তাহিরপুর যাওয়া আসার খরচ ২০০ টাকা, তাহিরপুর থেকে বাস স্টান্ডে আসার খরচ ২০ টাকা। ২০জনের দলের জন্য ২৬০০-৩০০০ টাকার মতো লাগবে।

ভ্রমন সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন / ইনফরমেশন লাগলে আমাকে ফেসবুকে নক করতে পারেন। অথবা, আমার ফেসবুক ট্রাভেল গ্রুপ “ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ” এ পোস্ট দিতে পারেন। যতদ্রুত সম্ভব হেল্প করার চেষ্টা করবো। 

মন্তব্য করতে ভুলবেন না
TAGS
মেহেদী হাসান
ঢাকা, বাংলাদেশ

হ্যা, এটাই আমি মেহেদী! এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা আমি একজন শখের ট্রাভেলার। পেশায় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। আমার জীবনের ষোল আনাই শখ। যেমন, সব ধরনের শখের মতো এই ব্লগটিও শখের। এটি আমার যাযাবর জীবনের ডায়েরী!

লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

পাওয়ার্ড বাই ধ্রুবহোস্ট

জয়েন করুন ছুটি ট্রাভেলস’এ

Instagram
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • #CoxsBazar
  • Instagram Image
error: Content is protected !!