ভ্রমন কাহিনী

স্বপ্নের মতো সুন্দর নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

হাজাছড়া আর রিসাং ঝর্ণায় আগে গেলেও ট্রেইল তেমন নেই বললেই চলে তাই ট্রেইল ব্যাপারটার সঙ্গে এতোটা পরিচিত ছিলাম না। রিসাং ঝর্ণায় পিছলা খেয়েই ঝর্ণার প্রেমে পরে গেছিলাম তাই এই বৃষ্টি মুখর দিনে কোন একটা ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য মনটা আকুপাকু করছিলো। যেই কথা সেই কাজ, ১দিনের নোটিশে ৫ বন্ধু চলে গেলাম নাপিত্তাছড়ায়। চট্রগ্রাম বহুবার যাওয়ার সুবাদে পাহাড়টা চেনা ই লাগলো কারন প্রতিবার যাওয়ার সময় এটার রুপ দেখে যাই। এইবার ভিতরে যেতে পারবো ভেবে আগেই বেশ উত্তেজিত ছিলাম।

আমরা যাত্রা শুরু করি কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্রগ্রাম মেইল ট্রেনে। এটি প্রতিরাতে ১০ টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে। কাউন্টার থেকে ১১০ টাকা জন প্রতি টিকেট কেটে উঠে পড়ুন। উল্লেখ্য ২ ঘন্টা আগে যাবেন আর ট্রেন কোথায় আছে খোজ নিয়ে আগেই যেয়ে ট্রেন উঠে পরেন প্ল্যাটফর্মে আসলে অনেক লোকের ভিড়ে সিট পাবেন না।

যাই হোক, নয়দুয়ারী নেমেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো এবং চলতেই থাকলো। আমরা একজন গাইড সাথে নিয়ে (৪০০ টাকায়) বিভিন্ন ছড়া পার হয়ে পাহাড়ের মধ্যে ঢুকে পরলাম। প্রথমেই ঝরঝরি ঝর্ণা তারপর একেরপর এক বিশাল বিশাল সব ঝর্ণা দেখলাম। এটি কুপিকাটাকুম ঝর্ণা। সবচেয়ে অসাধারন ব্যাপারটা হচ্ছে সারাদিন টিপটিপ করে বৃষ্টি আর ট্রেইলে অসাধারন পানির ছড়া। প্রায় ৪ ঘন্টা সময় ধরে ঘুরেছিলাম পুরো ট্রেইলটা। বৃষ্টির সময় ঝর্ণা আর ট্রেইলের রুপ যেনো শতভাগ বেরে যায়। তাই বৃষ্টির সময় ই যাওয়াই উত্তম।

আমরা কুপিকাটাকুম দেখে তার পাশের ছোট একটা রাস্তা দিয়ে পাহাড় বেয়ে উপরের স্টেপে উঠলাম তারপর বান্দরকুমের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। মোটামুটি ৩০ মিনিট পর বান্দরকুম দেখে আবার কিছু রাস্তা ফিরে এসে মিঠাছড়িতে গেলাম। আসলে রাস্তা একটি ই। এক জায়গায় এসে দুভাগ হয়ে দুদিকে গেছে তাই একটি দেখে এসে আরেকটিতে যেতে হয়। মিঠাছড়ি অনেকক্ষন ভিজে রওনা করলাম ফিরতি পথে।

যাওয়ার সময় পর্যটন হোটেল নামে এক হোটেলে খাবার অর্ডার দিয়ে গেছিলাম সেখানে এসে মুরগী, ভর্তা, ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার সারলাম। এরপর নয়দুয়ারি এসে লেগুনা করে বড়তাকিয়া তারপর বাসে করে ঢাকা ফিরি।

কিভাবে যাবেন?
=======================
রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর থেকে চট্রগ্রাম মেইল ট্রেনে করে ফেনি। টিকেট কাটলে ১১০ টাকা না কাটলে টিটি আসলে টিকেট কেটে নিবেন। ট্রেনের সামনের দিকে বগিতে যাবেন, ট্রেন আসার সাথে সাথে উঠলে সিট পাবেন। আরামেই চলে যেতে পারবেন।

ফেনি স্টেশন নেমে ১৫ টাকা পার হেড ভাড়া দিয়ে অটোতে মহিপাল তারপর ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে নয়দুয়ারি বাজার নেমে পরবেন।

সাথে কি কি নিবেন?
=======================
ড্রাই ব্যাগ, হাফ প্যান্ট দুইটা, ছাতা, রেইন কভার, ছোট পানির বোতল, ট্রেকিং স্যান্ডেল মাস্ট (নিচে গ্রীপ থাকে যেই স্যান্ডেলে)

আমাদের টোটাল খরচঃ
=======================
মেইল ট্রেনের ভাড়া ১১০
নাস্তা ৩০, লাঞ্চ ১২০, ডিনার ছিলো ফ্রি (পরিচিতের বাসায়)
আসার বাস ভাড়া ৪৮০ টাকা।

টোটাল ৭৪০ টাকা পার হেড। তাই বলে এটা নিয়েই রওনা দিয়েন না। সাথে আরো কিছু টাকা পয়সা রাখবেন।

ভ্রমন সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন / ইনফরমেশন লাগলে আমাকে ফেসবুকে নক করতে পারেন। অথবা, আমার ফেসবুক ট্রাভেল গ্রুপ “ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ” এ পোস্ট দিতে পারেন। যতদ্রুত সম্ভব হেল্প করার চেষ্টা করবো। 

মন্তব্য করতে ভুলবেন না
TAGS
মেহেদী হাসান
ঢাকা, বাংলাদেশ

হ্যা, এটাই আমি মেহেদী! এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা আমি একজন শখের ট্রাভেলার। পেশায় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। আমার জীবনের ষোল আনাই শখ। যেমন, সব ধরনের শখের মতো এই ব্লগটিও শখের। এটি আমার যাযাবর জীবনের ডায়েরী!

লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

পাওয়ার্ড বাই ধ্রুবহোস্ট

জয়েন করুন ছুটি ট্রাভেলস’এ

Instagram
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • #CoxsBazar
  • Instagram Image
error: Content is protected !!