ভ্রমন কাহিনী

মৈনট ঘাটের প্রেমে পড়েছি

পদ্মার বুকে চর জেগেছে , সে চরে শহর না হলেও ঘাট, বন্দর বিদ্যমান কিন্তু পদ্মার সে সর্বনাশা মহিমার ভয়াল মূর্তি এখনো যায় নি।কুল কিনারাহীন সেই সর্বনাশা পদ্মা নদী এখনো কতোটা থ্রিলিং ? এই ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং নদী দূষণের প্রতিযোগীতায় পদ্মা কি এখনো অনেক বিশাল ? বই পড়ে আর গান শোনেই যাদের পদ্মা সম্পর্কে জানাশোনা আমি তাদের বলবো ভাই একটা বার পদ্মার পাড়ে এসে দাঁড়ান। যাকে বলে ভয়ানক সুন্দর । হ্যা একই পদ্মা কিভাবে একই সাথে সুন্দর ও ভয়ানক হয় সেটা পদ্মার পাড় মৈনট গেলে জানতে পারবেন।

বিশাল জলরাশির বুকে আনুমানিক ১০০ বর্গ গজের ছোট্ট চর মিনি কক্সবাজার। শ্যওলা পড়া হালকা পিচ্ছিল বালুময় তীর ও চারপাশের সীমাহীন জলরাশি ,বিশাল পদ্মার বুকে জেলে নৌকা ও পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন বৈচিত্র আপনাকে মোহিত করবে। সে সৌন্দর্যের মাঝেও আপনি নিজেকে শান্ত রাখতে পারবেন না, শুন্যতার অজানা ভয় , উত্তাল পদ্মার তীরভাঙ্গা ঢেউ আর ক্ষণে ক্ষণে পাড় ধ্বসে পরার শব্দ আপনার মনে ভয়ের সঞ্চার করবে।যাকে বলে ন্যাচারাল থ্রিল।

ঘুরে আসলাম মৈনট থেকে। এমনই অসাধারন একটা দিন কাটিয়ে আসলাম। যদি বলেন আপনি নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পছন্দ করেন।খুব অল্প সময় ও অল্প বাজেটে কোথাও ন্যাচারাল থ্রীল নিতে চান । চোখ বন্ধ করে চলে যান মৈনট ঘাটে। আর যদি একটু কৌশলি হোন তাহলে ট্রিপটা হবে দারুন উপভোগ্য।

কিভাবে যাবেন? এবং ট্যুর প্ল্যানঃ

গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার থেকে যমুনা বাস / এন মল্লিক বাসে সকাল থেকেই গাড়ি যায় মৈনট ।

যারা ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর বাসি তাঁরা যাবেন অবশ্যই মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড হয়ে।মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড তিন রাস্তার মোড় থেকে আপনি সরাসরি সি এন জি নিয়ে মৈনট যেতে পারেন।

তবে, সরাসরি মৈনট না যেয়ে আপনি ভেঙ্গে ভেঙ্গে গেলে আরো বাড়তি কিছু আনন্দ নিতে পারেন । একই যাত্রা পথে আপনি রামের কান্দার ইনসান আলীর খুদের ভাতের সকালে নাস্তা ও কলাকোপার (মৈনটের আগে) কিছু দর্শণীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন।

মোপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সি এন জিতে বা গুলিস্তান থেকে গেলে সরাসরি রামের কান্দা নেমে যান। রামেরকান্দা নেমে ২০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে চলে যান গোয়ালখালী বাজারে ইনসার আলীর বিখ্যাত খুদের খিচুড়ি সাথে ১০ রকমের ভর্তা দিয়ে সকালে নাস্তা সেড়ে নেন। তারপর রিকশা দিয়ে আবার চলে আসুন রামের কান্দা এবং বাস/ সিএনজি নিয়ে চলে যান কলাকোপা।

কলাকোপা যেয়ে জজবাড়ি (মালিক থাকলে ঢুকা নিষেধ এছাড়া দারোয়ানকে ২০/৫০ টাকা দিয়ে ঢুকতে পারবেন), উকিল বাড়ি, আনসার ক্যাম্প, আদনান প্যালেস (শিশু পার্ক), আন্ধারকোটা ইত্যাদি এক দেড় ঘন্টা ঘুরে দেখতে পারেন।

তারপর একটা অটো ভাড়া করুন মৈনট যাওয়ার জন্য। মৈনটের ১-২ কিলো আগে কার্তিকপুর। সেখানে নেমে বিখ্যাত স্পঞ্জ মিষ্টি খেয়ে নিবেন অবশ্যই। মুখে দিলেই এই মিষ্টি গলে যায়, এতো সুস্বাদু।

মিষ্টি খেয়ে একই অটোতে মৈনট যান। সেখানে গিয়ে দুপুরের খাওয়া শেষে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করেন একটা চড়ে যাওয়ার জন্য। অবশ্যই গোসলের হাফ প্যান্ট নিয়ে যাবেন বাসা থেকে। ঘন্টায় ৫০০ টাকার মতো নিবে, লোক কম হলে একটু অপেক্ষা করলেই অনেক গ্রুপ পাবেন কারো সাথে কথা বলে শেয়ারেও নৌকা নিতে পারেন এক্ষেত্রে খরচ অনেক কমে যাবে। ২-৩ ঘণ্টার জন্য মানে প্রায় বিকেল পাচটা – সাড়ে পাচটা পর্যন্ত নৌকা নিবেন।

ইচ্ছে মতো গোসল করে, ফুটবল নিতে গেলে ফুটবল খেলে আসতে পারবেন। আর যদি বৃষ্টি হয় যা দেখবেন তা আর কোনদিন ভুলবেন না, এতো অসাধারন একটা পরিবেশ হবে। চরে যদি না যান তবে আপনার মৈনট যাওয়া ৮০ ভাগ ই বৃথা।

চর থেকে ফিরে সোজা বাসে তারপর গুলিস্তান নামিয়ে দিবে। যদি মোহাম্মদপুর / মিরপুর / ধানমন্ডি যেতে চান গুলিস্তান না গিয়ে হেলপার কে বলবেন কোনাখোলা নামিয়ে দিতে তারপর মাথাপিছু ৩০ টাকা নিবে আপনাকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড নামিয়ে দিবে।

কোথায় খাবেন?

মৈনটে পদ্মা হোটেলে দুপুরে খাবার খেতে পারেন এরা ৪-৫ রকমের সব্জি, ৪-৫ রকমের ভর্তা, ইলিশ ভাজা, ডাল, ভাত প্যাকেজ ১৫০টাকায় বিক্রি করে। আমি পুরোটাই ঘুরে দেখেছি এদের আইটেম এবং প্যাকেজ সবচেয়ে ভালো।

মিষ্টি খাবেন রনজিৎ মিষ্টান ভান্ডারের। দুপুর ২ টার দিকে গরম মিষ্টি নামানু হয়। তখন গেলে মিষ্টি খেতে পারবেন এবং কিনেও ঢাকা আনতে পারবেন। আর যদি ১ টায় যান নাও পেতে পারেন পেলেও অল্প পাবেন যা খেতে পারবেন কিন্তু আনতে হয়তো পারবেন না।

খরচাপাতিঃ

সকালে নাস্তা ৪০ টাকা।
দুপুরের খাবার ১৫০ টাকা।
মোহাম্মদপুর থেকে যেতে ১৫০ টাকা।
আসতে ১২০ টাকা।
মিষ্টি পিছ ১৫ টাকা ( যা খান)
প্রবেশটিকেট ৬০ টাকা ( ২ জায়গায়)
নৌকা ভাড়া অনুযায়ি মাথাপিছু ১০০-১৫০ টাকা
কার্তিকপুর টু মৈনট ৫০ টাকা

 

ভ্রমন সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন / ইনফরমেশন লাগলে আমাকে ফেসবুকে নক করতে পারেন। অথবা, আমার ফেসবুক ট্রাভেল গ্রুপ “ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ” এ পোস্ট দিতে পারেন। যতদ্রুত সম্ভব হেল্প করার চেষ্টা করবো। 

মন্তব্য করতে ভুলবেন না
TAGS
মেহেদী হাসান
ঢাকা, বাংলাদেশ

হ্যা, এটাই আমি মেহেদী! এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা আমি একজন শখের ট্রাভেলার। পেশায় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। আমার জীবনের ষোল আনাই শখ। যেমন, সব ধরনের শখের মতো এই ব্লগটিও শখের। এটি আমার যাযাবর জীবনের ডায়েরী!

লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

পাওয়ার্ড বাই ধ্রুবহোস্ট

জয়েন করুন ছুটি ট্রাভেলস’এ

Instagram
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • #CoxsBazar
  • Instagram Image
error: Content is protected !!