মিও’র, ইউরোপ, আমেরিকা, মেকং ঘুরে বাংলায়

প্রথম দেখায় সত্যিই ভয় পেয়ে গেলাম। বিশালদেহী ভদ্রলোক ৬ফুট ৪ ইঞ্জি উচ্চতার একজন হল্যান্ডিয়ান। রাতের আড্ডায় সবাই বয়স কত জিজ্ঞেস করলো পরে জানলাম ৪০+ চিন্তা করলাম এই বয়সে দেশের মানুষ সংসারের ঘানি টানছে।

প্রথমদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলো, একটু বেশি ক্লান্ত হয়ে যায় বয়সের তুলনায়। আর গরম খুব একটা ভালো লাগে না। কি করা হয় জিজ্ঞেস করতেই জানালো ৪-৫ ধরনের ব্যবসায় যুক্ত ছিলো। সব বেচে টেচে দিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে বেড়িয়ে পরেছে। উইন্টারে ৬ মাস বিশ্বের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায় আর, ১টা প্রতিষ্ঠান এখনো বেচে খায়নি তাই সামারে সেটার দেখাশোনা করে আর দিন গুনে পরবর্তি সফরের।

৪০-৫০জন কর্মী, আধুনিক সব ইকুয়েপমেন্ট নিয়ে তার ভাষায় ছোট একটা কন্সট্রাকশন ফার্ম। ফুল নেম একটু অদ্ভুত তাই শর্টনেম বলে বেড়ায় সবাইকে। তবে, আমিও নাছোড়বান্দা। শেষতক শুনেই ছাড়লাম তার নাম “মিওদ্রাগ পুয়াছা”।


শীপের বারান্দা বলি আর ওয়াশরুম আর কেবিন সব জায়গাতেই ঘাড় কাত করে চলাফেরা করলো ৩দিন। এ নিয়ে বেশ হাসাহাসি করলাম দুজন। তারপরও ফেরার দিন ঘন্টা দুয়েক ঘাড় কাত করেই খোশ গল্পে মেতে উঠলো কারন ২-৩দিনে তেমন কোন আলাপই যে করা হয়নি।

আমেরিকা ভ্রমণ শেষ ২বার প্রায়, ইউরোপ প্রায় ৯০% তারপর ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া সহ এদের প্রাণ মেকং রিভার এও থেকে এসে কয়েক রাত। মেকং এর নাম শুনে আমার চোখ চকচক করে উঠতে দেখলো আশার বানি দিলো সে গল্প অবশ্যই আমাকে শুনাবে।


বিশ্ব ভ্রমণ প্রায় ৭০% শেষ এই উইন্টারে ২সপ্তাহ বাংলাদেশ ঘুরে যাবে ইন্ডিয়ায় তারপর ১ সপ্তাহ শ্রীলংকা ঘুরে আবার ইন্ডিয়ার নর্থে। সেখান থেকে সাউদ পাকিস্তান যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা তবে আশার আলো এখনো দেখতে পায়নি কারন ইন্ডিয়া পাকিস্তানের সাপে নেউলে সম্পর্ক।

তবু চেষ্টা করে যাবে সর্বোচ্চ যাতে সাউদ পাকিস্তান এটলিস্ট ঘুরে এবারের সফর শেষ করতে পারে। বয়স ও তো বেরে যাচ্ছে। আমি তো একবারে হেসেই উড়িয়ে দিলাম আরে ৪০ এ এই কথা? তারপর আমাকে মনে করিয়ে দিলো ইটস ৪০+ & নেক্সট মান্থ ইট উইল বি ৫০। হাহাহা! দারুন মজা নিয়ে নিলো আমাদের সাথে। ৪০+ মানে ৪১ ও হয় ১০০ ও হয় বলে।

—-
দেশ বিদেশ অর্থনীতি রাজনীত ভ্রমণ সব কিছু নিয়েই কত আলাপ করলাম আর বোঝলাম এদের চিন্তা চেতনা কত ব্রড আর, কত সিম্পল। নিজের বাড়ির দেখালো, কাজের পরিবেশ দেখালো, দেখালো আরো অনেক কিছু। দেশকে নিয়ে গর্ববোধ করলো। আমিও সুযোগে নিজের দেশ নিয়ে নানা ধরনের পজেটিভ কিছু শুনিয়ে দিলাম তবুও এয়ারপোর্ট থেকে নেমে জ্যাম সহ আরো বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় তার। তবে, এটুকু বুঝলো ঢাকা ছাড়া আমার এই দেশটা অনেক সুন্দর।

—-
আবার আসবে কি জিজ্ঞেস করতেই বললো, “আই হোপ, আই হেভ এনাফ মানি! হো হো হো”! আর কিছু বললো না তাই ধরেই নিলাম আবার আসবে! কিছু রত্ন আছে দেশে যা একবার দেখে মন ভরেনি।

আপনার মতামত শেয়ার করুন