ভ্রমন কাহিনী

খৈয়াছড়া ঝর্ণা ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

কয়েক সপ্তাহ আগে ঘুরে আসলাম নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা। এবার ঘুরে আসলাম খৈয়াছড়া ঝর্ণা। খৈয়াছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। মিরসরাই এর এই নয় স্টেপ এর ঝর্না বিস্ময়কর। খৈয়াছড়া – আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে এটা নিঃসন্দেহে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণাগুলোর ১টি।

সব প্ল্যান প্রোগ্রাম করে আমরা ছুটি ট্রাভেল গ্রুপের ২১ জন (ট্রেনে আরো ৩/৪জন আমাদের আড্ডাবাজি আর গানবাজি দেখে আমাদের সাথে এড হয়ে যায়) রওনা দিলাম। রাত সাড়ে দশটার চট্রগ্রাম মেইলে করে যাবো তাই সবার টিকেট করে ফেলি আগেই। আপনাদের জন্য টিপস আগে টিকেট করার দরকার নাই। স্টেশনে এক-দেড় ঘন্টা আগে গিয়েও টিকেট করলে সমস্যা নাই। আর মেইল ট্রেনে সিট পেতে হলে প্ল্যাটফর্মের একদম লাস্ট পিলারে ৩৫নং এ গিয়ে দাড়াবেন। আর, প্রথমদিকের বগিতে উঠার চেষ্টা করবেন। যেই বগিতে ঢুকবেন সেখানেই সিট দখল করুন কারন, বের হতে হতে সব বগিতেই লোক ঢুকে যায় ১ মিনিটের মধ্যে।

রাতে ট্রেনে সিট দখল করে এক এক জন আমরা একজায়গায় বসে আছি। একটু পর মিশনে নামি কিভাবে একসাথে হওয়া যায়। সে ছিল এক দেখার মতো কাহিনী। তিন জানালা তিন চাচা দখল করে বসে আছে কেউ উঠবে না। একজন তো কথাই কয় না। অনেক ভাবে বোঝানুর চেষ্টা করে সবাই ব্যর্থ। তারপর শুরু করলাম, পুরো বগিতে ১০-১৫ জন গান করলে যা হয় আর কি! আস্তে আস্তে তাদের অন্যসিট দিয়ে রিপ্লেস করে সব শেষ পর্যন্ত দখল করলাম আমরা। (কোন অসন্মান / অশালীন কিছু করা হয়নি)।

তারপর আড্ডা আর খাওয়া দাওয়া করতে করতে সকাল হয়ে গেলো, ভোরের সূর্য উঠা দেখলাম ট্রেনেই আর তখনই শুরু হলো তুমুল বৃষ্টি। প্রকৃতির অসাধারন এক রুপ দেখতে দেখতে আমরা পৌছে গেলাম ফেনি। তারপর অটো তে  মহিপাল। নাস্তা মহিপালে করে বাসে করে গেলাম বড়তাকিয়া বাজার। সেখান থেকে খৈয়াছড়া স্কুল এর কাছে এসে সিএনজি নিয়ে মূল ট্রেকিং যেখান থেকে শুরু হয় সেখানে চলে গেলাম।

কিভাবে যাবেন? 

চট্রগ্রামগামি যেকোন বাসে উঠে যেতে পারবেন। নেমে পড়বেন সরাসরি বড়তাকিয়া বাজার। অথবা, ঢাকা – ফেনীর গাড়িতে যেতে পারবেন। ফেনি মহিপাল নেমে লোকাল বাসে করে ৪০-৫০ মিনিটে বড়তাকিয়া বাজার চলে যেতে পারবেন। সেখান থেকে খৈয়াছড়া। এছাড়া, কমলাপুর থেকে মেইল ট্রেনে করে ফেনি পর্যন্ত যাবেন তারপর অটো তে  মহিপাল। সেখান থেকে লোকাল বাসে করে বড়তাকিয়া বাজার। সেখান থেকে খৈয়াছড়া স্কুল এর কাছে এসে সিএনজি নিয়ে মূল ট্রেকিং এর রাস্তায় ঢুকে যাবেন। বড়তাকিয়া নেমে যে কাউকে বললেই সব সাহায্য পাবেন।

কোথায় থাকবেন?

বড়তাকিয়া থাকার তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। থাকতে হলে সীতাকুন্ড গিয়ে হোটেলে থাকতে পারবেন। মূলত ৪-৫ ঘন্টায় খৈয়াছড়া ঘুরা হয়ে যায় তাই এখানে রাতে কেউ থাকে না। আসলে, থাকার প্রয়োজন ও হয় না।

কোথায় খাবেন?

ঝর্ণায় যাওয়ার পথে অনেক হোটেল পাবেন। তবে, কারো ডাকে সারা না দিয়ে পথেই শেষের দিকে একটা হোটেল পাবেন ঝর্ণা হোটেল নামে। পর্যাপ্ত পরিমানে জায়গা আছে খোলামেলা পরিবেশ। ঝর্ণা থেকে ফিরে কাপড় পরিবর্তন করার জন্য সুন্দর ঘর আছে। যাওয়ার সময় ব্যাগ রেখে যেতে পারবেন এবং খাবার যা খাবেন অর্ডার করে যাবেন। ফিরে এসে এখানে কাপড় পরিবর্তন করে খেয়ে ফ্রেশ হয়ে রওনা দিতে পারবেন। এছাড়া, ঝর্নায় যাওয়ার সময় এখান থেকে ফ্রি বাশ ও নিয়ে যেতে পারবেন। পথের মধ্যে বাশ কেনার দরকার নেই।

খরচ কেমন হবে?

এবার আসি আসল বিষয় খরচে। সত্যিকার অর্থে বড় কোন খরচ নেই। আমরা যেভাবে গিয়েছিলাম সেই হিসাব দেই। মেইল ট্রেনে ১১০ টাকা টিকেট, তারপর অটো তে ১৫ টাকা করে মহিপাল, নাস্তা করেছি ৫০ টাকা, বাস ভাড়া মহিপাল থেকে বড়তাকিয়া ৫০ টাকা, বড়তাকিয়া থেকে সিএনজি নিয়ে ঝিরি পথে ২৫ টাকা, দুপুরের খাবার ১৫০ টাকা, ঝিরি পথ থেকে বড়তাকিয়া আসতে ২৫ টা সিএনজি ভাড়া, বড়তাকিয়া থেকে সীতাকুন্ড ৩৫ টাকা, সীতাকুন্ড থেকে ঢাকা ৪০০ টাকা। সর্বমোট খরচ ৮৬০ টাকা।

 
ভ্রমন সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন / ইনফরমেশন লাগলে আমাকে ফেসবুকে নক করতে পারেন। অথবা, আমার ফেসবুক ট্রাভেল গ্রুপ “ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ” এ পোস্ট দিতে পারেন। যতদ্রুত সম্ভব হেল্প করার চেষ্টা করবো। 

মন্তব্য করতে ভুলবেন না
TAGS
মেহেদী হাসান
ঢাকা, বাংলাদেশ

হ্যা, এটাই আমি মেহেদী! এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা আমি একজন শখের ট্রাভেলার। পেশায় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। আমার জীবনের ষোল আনাই শখ। যেমন, সব ধরনের শখের মতো এই ব্লগটিও শখের। এটি আমার যাযাবর জীবনের ডায়েরী!

লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

পাওয়ার্ড বাই ধ্রুবহোস্ট

জয়েন করুন ছুটি ট্রাভেলস’এ

Instagram
  • Instagram Image
  • Instagram Image
  • #GreenLand #CoxsBazar
  • Instagram Image
  • #Vorta #CoxsBazar
  • Instagram Image
error: Content is protected !!