ভারত ভ্রমন

ইন্ডিয়ান ভিসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত

ভিসা দুইভাবে করা যায় এক ইটোকেন নিয়ে এপয়েন্টমেন্ট করে আর একটা ইটোকেন ছাড়া বাসের / ট্রেনের কনফার্ম টিকেট দিয়ে। যদি যাত্রার ৭ দিন থেকে ১ মাস আগে ভিসা করতে চান তাহলে কনফার্ম টিকেট দিয়ে করতে পারেন। আর যদি আগেই ভিসা নিয়ে রাখতে চান তাহলে ইটোকেন দিয়ে করাই ভালো। আমি এখানে দুটি পদ্ধতিতেই কিভাবে ভিসা করা যায় বিস্তারিত দিচ্ছি।

এই চেকলিস্ট হচ্ছে ভিসার কাজ শুরু করার জন্য (এম্বেসীতে ডেট নেবার জন্য) প্রসেসিং করতে লাগেঃ

১/ পাসপোর্টের মুল পেইজের স্ক্যান কপি।
২/ এক কপি ছবি (পাসপোর্ট সাইজের হলেও চলবে আমরা আমাদের মতো ভিসার সাইজ করে নিবো। স্ক্যান করা না থাকলে মোবাইল দিয়ে ছবিটা তুলে দিয়ে পাঠালেই হবে আমরা ফটোশপে বাকীটা করে দিবো )
৩/ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল করে নিচের ইনফো গুলো দিবেন।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা।
  • বর্তমান ঠিকানা।
  • নিজের, বাবা মা, বউ/জামাই থাকলে তার জন্ম স্থান।
  • কোন পোর্টে ভারত প্রবেশ করবেন তার নাম।
  • পেশা কি? ছাত্র হলে প্রতিষ্টানের নাম ও এড্রেস এবং কিসে পড়েন তার বিস্তারিত
  • চাকুরিজিবি হলে প্রতিষ্টানের নাম ,ঠিকানা এবং প্রতিষ্টানে আপনার পদবী কি তা লিখে পাঠাবেন।
  • আগে ভারত গেলে সর্বশেষ ভিসার ছবি তুলে পাঠাবেন।
  • ভারত ব্যাতীত অণ্য রাষ্ট্রে গেলে তার নাম
  • ফোন নং

আর ডেট উঠার পর এম্বেসীতে যাবার আগে
====================================

  • ইটোকেন ফরম -সাদাকালো প্রিন্ট ।
  • দুই বাই দুই ইন্জি ছবি ব্যাকগ্রাউন্ড হতে হবে সাদাকালো – ছবিটি ইটোকেন ফরমে আঠা দিয়ে লাগাবেন। এই সাইজের ছবিগুলো পাসপোর্ট সাইজের ছবি থেকে একটু বড় হয় ।
  • পাসপোর্ট এবং এর ফটোকপি (মেয়াদ সর্বনিম্ন ছয়মাস থাকতে হবে) পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটাও জমা দিতে হবে
  • জন্মসনদ অথবা ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি (আপনি যেটা দিয়ে পাসপোর্ট করিয়েছেন সেটা দিবেন।
  • ঠিকানা প্রমাণের জন্য বর্তমান ঠিকানার সাম্প্রতিক গ্যাস বিল অথবা বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি
  • ছাত্র হলে আইডি কার্ডের ফটোকপি আর চাকুরিজীবি হলে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট সংক্ষেপে NOC আর ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি ।
  • ডলার এন্ড্রসমেন্ট করতে হবে ব্যাংক থেকে সর্বনিম্ন ১৫০ ডলার।
  • এন্ডরসমেন্ট করার পর একটা কাগজ দিবে সেটার মুলকপি অথবা আপনি আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টও জমা দিতে পারেন সেক্ষেত্রে বিগত ছয়মাস ধরে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা একাউন্টে থাকতে হবে
  • এবং ভিসা ফী ছয়শো টাকা এম্বেসীর ভিতরে জমা নিবে।

 

ই-টোকেন ছাড়া ভিসা পেতে যা করবেন
====================================

  • আবেদন ফর্ম পূরণ করুন এই লিঙ্কে
  • খুব দ্রুত কাজ করতে হবে, কারণ সময়ের মধ্যে ফিলাপ করতে না পারলে যতটুকু ফিলাপ করেছেন সেটিও সাইট থেকে চলে যাবে। বার বার ফিলাপের ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি তথ্য সাথে নিয়ে বসুন। প্রয়োজনে লেখার সময় অন্য কারও সাহায্য নিন। খেয়াল রাখবেন ছবি কিন্তু পাসপোর্ট সাইজের না, ২/২ ইঞ্চি সাইজের লাগবে।
  • ভারতে যাওয়ার টিকিটটি কেটে ফেলুন। ভারতীয় হাই কমিশনের স্বীকৃত বাসের, ট্রেনের বা বিমানের, যে বাহনে আপনি যেতে চান তার টিকিট কাটুন। শুধু যাওয়ার টিকিট কাটলেই হবে। আপনার যাওয়ার তারিখ যত দেরিতে হবে তত সময় বেশি পাবেন। যদিও আপনি দ্রুতই ভিসা পেয়ে যাবেন তবু নিরাপদ থাকার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার দিন থেকে যাওয়ার তারিখ ৭ থেকে ১ মাস সময়ের ব্যবধানে হলে ভালো হয়।
  • ডলার এন্ডোরস করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, ভারতীয় হাই কমিশনের শেষ ঘোষণা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে ডলার এন্ডোরস করাতে হবে। যে কোনো মানি চেঞ্জারের কাছ থেকে ডলার কিনলে হবে না। এজন্য ব্যাংক একাউন্ট করতে হলে করে ফেলুন।
  • পাসপোর্টের সাথে টিকিট, ইলেকট্রিসিটি বিল (বা যেকোনো ইউটিলিটি বিল), ডলার এন্ডোরসমেন্ট বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের মেইন কপি দিয়ে দিন। পাসপোর্টের সাথে সেগুলো আবার ফেরত পাবেন। তবে এই সবকিছুরই ফটোকপি রাখুন কারণ এপ্লিকেশন ফর্মের সাথে জমা দিতে হবে।
  • কাগজপত্র যেভাবে সাজাবেন-

– আবেদন ফর্ম (৩টি পেইজ একসাথে পিনাপ করবেন)
– ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেটের ফটোকপি
– ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ডলার স্টেটমেন্টের ফটোকপি
– আপনার পেশাগত স্টেটমেন্ট মানে পরিচয়পত্র/ এন ও সি
– ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি, সাথে অবশ্যই টিন নং দিতে হবে।
– টিকিটের ফটোকপি
– পাসপোর্টের ফটোকপি

  • ৬০০ টাকা ভিসা ফি ইউ ক্যাশ এ জমা দিয়ে পাসপোর্ট জমা দেবার জন্য লাইনে দাঁড়ান। এরপর আপনাকে একটি তারিখ দেওয়া হবে। সেই তারিখে গিয়ে ভিসা এবং পাসপোর্ট নিয়ে আসুন।

 

গ্রুপ ট্যুরে যেতে চাইলে? 

ছুটি ট্রাভেলস গ্রুপ সময় এবং সিজন অনুযায়ী গ্রুপ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে। সাজেক, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, হাওর, রাঙ্গামাটি, ঝর্ণা ট্যুর, বিভিন্ন ধরনের ডে ট্যুর, রিসোর্ট ট্যুর এবং আরো অনেক রকমের ইভেন্ট হয় সারা মাস এবং সারা বছর। আমাদের গ্রুপে জয়েন করলে আমাদের সব আপডেট এবং ইভেন্ট লিস্ট দেখতে পারবেন। যেহেতু গ্রুপ ট্যুর হয় তাই খরচ হবে সবচেয়ে কম এবং আপনাকে টিকেট / খাবার / লোকেশন / স্পট / ট্রান্সপোর্টেশন ইত্যাদি কোন কিছু নিয়েই টেনশন করতে হবে না। আমাদের আগের সব ট্যুরের এলবাম দেখতে চাইলে ভিজিট করতে পারেন আমাদের ছুটি ট্রাভেলস গ্রুপের ফেসবুক পেজ

মন্তব্য করতে ভুলবেন না
TAGS
মেহেদী হাসান
ঢাকা, বাংলাদেশ

হ্যা, এটাই আমি মেহেদী! এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা আমি একজন শখের ট্রাভেলার। পেশায় সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। আমার জীবনের ষোল আনাই শখ। যেমন, সব ধরনের শখের মতো এই ব্লগটিও শখের। এটি আমার যাযাবর জীবনের ডায়েরী!