Mh Mehedi

Open Source Enthusiastic and Linux System Administrator

ফ্রিল্যান্স ক্লাইন্ট হ্যান্ডলিং এর গুরুত্ত এবং কিছু কথা

ফ্রিল্যান্স কাজ করতে গেলে বেশিরভাগ মানুষের ই যে সমস্যা দেখা যায় তা হলো তাদের প্রোফাইল নিয়ে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, প্রোফাইল ১০০% না করা পর্যন্ত কেউ বিড ও করে না এমন মানুষ ও আছে। আর কাজ নিয়ে তো ৯৫ ভাগ মানুষ সমস্যায় থাকেই। কিন্তু একটা গুরুত্তপূর্ন জিনিস যেটা নিয়ে কাউকে কখনো প্রশ্ন করতে দেখি ও নাই শুনি ও নাই, কোথাও আলোচনা ও করতে দেখি নাই সেটা হলো ক্লাইট হ্যান্ডলিং। যদি ও বেশির ভাগই কন্ট্রাকটর রা ই বিগিনিং লেভেলে তাই তারা আগে কাজ পাওয়া নিয়ে ই ব্যস্ত। পরবর্তিতে হয়তো এটা নিয়ে তারা ভাবতেন/প্রশ্ন জাগতো। যাই হোক মূল আলোচনায় আসি,

ক্লাইন্ট হ্যান্ডলিং এর গুরুত্ত তারা বুঝে যারা ৫ ডলার দিয়ে কাজ শুরু করছে তারপর ১০০০ ডলার পার হয়ে গেছে কিন্তু কাজ আর শেষ হয় না। তাদের কাজটা কিন্তু ছিল ৫/১০ ডলার এর ফিক্সড জব, অনগোয়িং ও না, তাহলে প্রশ্ন ১০০০ ডলার এর কাজ করলো কিভাবে ? আসল ব্যাপারটা সবাই জানেন, সেটা হলো ক্লাইন্ট কন্ট্রাকটর এর কাজ , কন্ট্রাকটর এর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় পছন্দ করার কারনে নিয়মিত তাকে জব দেয়/মান্থলি কোন জব দেয়। যারা সবসময় ফ্রিল্যান্স জব করে তাদের কাছে মান্থলি ফ্রিল্যান্স জব পাওয়া অনেকটা আরামদায়ক এবং সবাই এটা প্রত্যাশা করে যে সে একটা মান্থলি/অনগোয়িং বড় একটা জব পাবে। সেক্ষেত্রে কি কি করনীয় আসুন তা একবার দেখে নিই। এসব কোনটাই নিয়ম নয়। কিন্তু এসব করলে পজেটিভ ফল অবশ্যই পাবেন।

client handling , mh mehedi

 

১. ডেডলাইন কখনো মিস করবেন না ; [এক্ষেত্রে করনীয় হলো যা সময় লাগবে তার থেকে ২/৩/৪ দিন সময় বেশি নেয়া , সম্ভব হলে দিগুন সময় নেয়া]।

২. ক্লাইন্টকে এর সাথে মেইল/ওডেস্ক মেসেজিং বেশি না করে স্কাইপ এ এড করে নিন/তাকে বলুন এড করতে। এতে কমুনিকেশন ভালো হয়। সম্পর্ক ও ভালো থাকে।

৩. যা কাজ দিবে শুধু সেটুকু ই করে বসে থাকবেন না, সময় থাকলে অন্যজিনিসগুলার দিকে নজর দিন। যেমনঃ আমিএকটা এসইও এর কাজ করতে গিয়ে সাইটে বেশ কিছু বাগ পেলাম, আমি সেটা বায়ার কে নোটিশ করি, এসইও এর কাজ শেষে বায়ার আমাকে বাগ গুলা ফিক্স করতে বলে এবং ভালো মানের একটা বোনাস দেয়। এবং কাজ টা ইন্ড না করে তার সাইটের অভারঅল ম্যাইটেনেন্স এর দায়িত্ত আমাকে দেয়।

৪. কখনো আপ-ফ্রন্ট আগে চাবেন না। ক্লাইন্ট এর রিকোয়ারমেন্ট মনযোগ দিয়ে শুনুন, সমস্যা থাকলে আলোচনা করুন, সবকিছুর শেষে তাকে আপফ্রন্ট এর কথা বলুন (যদি দরকার না থাকে তাহলে বলার দরকার নাই অথবা যদি নতুন বায়ার হয় তাহলে বলুন)।

৫.  আমি কখনো ক্লাইন্ট কে বলি না যে তোমার কাজের এখানে সমস্যা হচ্ছে/ এখানে কাজ হচ্ছে না, সবসময় বলি এটা করলে আমাদের ভাল হবে। এতে সে বুঝে যে কাজটা আমি নিজের মনে করে করতেছি। (এটা ইম্পর্টেন্ট না তবে আমার কাছে কেন জানি গুরুত্তবহন করে)।

৬. যেকোন মেইল/মেসেজ এর রিপ্লাই যতদ্রুত সম্ভব দিন। যত লেট করবেন সে তত বিরক্ত হবে। কারন আপনি রিপ্লাই দিলে তাকে ও আপনার উত্তর এর উপর ভিত্তি করে রিপ্লাই দেয়া লাগতে পারে।

৭. কখনো যদি কোন কাজ করতে আংশিক/সম্পূর্ন ব্যর্থ হোন তাহলে সাথে সাথে ক্ষমা চেয়ে নিন। এবং সেজন্য যদি কোন পেমেন্ট নিয়ে থাকেন তা ফেরত দিন। তাতে বায়ার খুশি হবে।

৮. কখনো ও এমন কাজ করবেন না যাতে বায়ার এর চেহারা নিচের ছবির মতো হয়। 😛

৯. বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টাকা পয়সা নিয়ে বায়ার দের সাথে বেশি লাগে ; এব্যাপারে সচ্ছ থাকুন।

১০. কন্টাক্ট শেষ হলেই যোগাযোগ এর রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে দিবেন না। সময় সুযোগ হলে তাদের নক করবেন / মেইল ও করতে পারেন। (ইম্পর্টেন্ট)।

১১. প্রতিটা কাজ কনফিডেন্স নিয়ে করুন। বায়ার কে সবকিছু সম্পর্কে অবহিত করুন যে আপনি কি কি করতেছেন। তাতে সে বুঝবে যে আপনি কি পরিমান কাজ করছেন এবং সে অনুপাতে আপনাকে পেমেন্ট দিবে, আপনাকে কিছু বলতে হবে না (যদি পেমেন্ট আগেই ফিক্সড না থাকে)।

১২. সব সময় কাজের কথা না বলে, দুজন ই ফ্রি থাকলে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারেন, এটা অনেক কাজে দেয়। তবে কখনো কোম্পানীর হয়ে কাজ করে এমন বায়ার কে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না। তাইলে শেষ , 🙁

আজ আর মনে আসছে না। এটা নিয়ে পরবর্তিতে আবার লেখবো ইনশাল্লাহ এবং খুব তাড়াতাড়িই … আর এগুলা আমার সম্পূর্ন ব্যক্তিগত অভিমত। ভুল জায়গায় ভুল ইউজ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে আমি দায়ি থাকবে না।

আমার এক বায়ার ট্রাভেলার। তাকে আমি বাংলাদেশের ভালো ভালো জায়গার (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, নীলগিড়ি, বগালেক, ফয়েজলেক, মহাস্থানগড়, সৃতিসৌধ, সুন্দরবন ইত্যাদি ) অনেক ছবি দেখিয়েছি অনেক খাবার , পিঠার ছবি ও দেখিয়েছি, সে এবং তার কয়েক জন বন্ধু এখন বাংলাদেশে আসতে অনেক আগ্রহী। এতে আমার কোন আর্থিক লাভ হয় নাই, কিন্তু তারা আসলে আমার দেশ কিছুটা হলেও লাভবান হবে। সবসময় সবকিছু শুধুমাত্র অর্থের জন্য করবেন না। মানসিক শান্তি এবং আমাদের দেশের জন্য ও কিছু করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

Previous

আউটসোর্সিং ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

Next

ফ্রিল্যান্সিং করেন ; কিন্তু তাই বলে কি সবার কাজ করবেন ? আসুন জেনে নিই –

21 Comments

  1. Mishkat

    বিষয়গুলো যেনে উপকৃত হলাম। সবচেয়ে ভালো লাগল দেশের প্রতি ভালোবাসা।ধন্যবাদ মেহেদী ভাই

  2. শাওউন

    আমরা কি ঘোড়ার ঘাস কাটি নাকি যে আমরা বায়ার কে এত তেল মালিশ করমু!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

    • এগুলা কোন দিক থেকেই তেল না। আপনার ইচ্ছা হলে করতে পারেন , ইচ্ছা না করলে করবেন না । আমি এগুলা সরাসরি কাউকে করতে বলি নাই। আগেই বলেছি, এটা আমার নিজস্ব অভিমত।

    • ঘোড়ার ঘাস কাটেন না কিন্তু সেই বায়ারের কাজ করেন, তার থেকে টাকা নেন। আর যার কাছ থেকে টাকা নেন তাকে একটু তেল মালিশ করতেই হবে।

  3. আসলে একটু মনোযোগী হলেই একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়।
    আপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো। বিষয়গুলো হয়তো খুব বড় কিছু না, কিন্তু একটু খেয়াল করলেই অনেক কিছু পাওয়ার আছে।

    ধন্যবাদ। 🙂

    • পান্থ দা একদম ঠিক বলেছেন। এগুলা আসলেই বড় কিছু নয়। কিন্তু একটু খেয়াল করলে এগুলা থেকেই অনেক কিছু পাওয়া যায়।
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। 🙂 গরীবের বাড়িতে হাতির পারা …. 😀

  4. উপরের লিংক ছাড়া ভদ্রলোকের কমেন্ট পড়ে হাসি পাচ্ছিলো :P। “কন্টাক্ট শেষ হলেই যোগাযোগ এর রাস্তা চিরতরে বন্ধ করে দিবেন না। সময় সুযোগ হলে তাদের নক করবেন / মেইল ও করতে পারেন। ” এই অপশন টা খুব ভালো লেগেছে। আসলেই এতে কিন্তু লাভ ই লাভ। ধন্যবাদ মেহেদি ভালো কিছু এক্সপেরিয়েন্স সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য। 🙂

    • হা হা , আমার আগে হাসি পায় নাই, এখন পাচ্ছে। 😀
      কারো যদি কোন উপকার হয় তাতেই আমার লেখা সার্থক, 🙂
      গরীবের বাড়িতে অনেক বড় হাতির পারা …. (খুশিতে ফাইট্টা পরার ইমো হপে) …

  5. Prince

    খুব ভালো লিখেছেন, ধন্যবাদ। 🙂

    গতবার অনেক পুরোনো এক ক্লায়েন্টকে ক্রিসমাসে একটা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলাম। তার পরের সপ্তাহে আমার সাথে যোগাযোগ করে বল্লো আমি কিছু কাজ করতে রাজি আছি কি না !

    বলাবাহুল্য যে, কাজটা আমার সাধ্যের মধ্যে থাকায় সাথে সাথে রাজি হতে দ্বিধা করিনি!

    বলতে গেলে এরপর থেকে নিয়মিত কাজ পাচ্ছি তার কাছ থেকে।

    • ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য , ব্যাপার গুলো আসলে এমনই হয় , খুব ক্ষুদ্র ব্যাপার , যেগুলা আমরা পাত্তা দেই না , সেই সব কারনেই পরবর্তিতে অনেক লাভবান হওয়া যায়। 🙂

  6. belayet hosen

    ভালই লাগল

  7. গরীবের ঘরে তেলের সাথেও পানি মিশানো থাকে। 😛 হুম ভাই ঠিক বলছেন, সম্পর্ক ভাল থাকলে সে নিজে কাজ দিতে না পারলেও অনেক সময় তাদের পরিচিত অন্য কাউকে বলে এই কন্ট্রাক্টরকে কাজ দেয়ার জন্য।

  8. Valo Laglo .

    Thanks .

  9. Arian

    Fantastic

  10. Vai onek onek thanks. Erokom kichoi ekta khojtachilam.

Leave a Reply

Powered by WordPress & Theme by Anders Norén