Guideline

কক্সবাজার ভ্রমণ, কোথায় থাকবেন, খাবেন, ঘুরবেন

on
December 24, 2017

কক্সবাজার ভ্রমণ ট্যুর প্ল্যানঃ যেহেতু কেউ ১ রাত কেউ ২ রাত কেউ বা ৩ রাতের প্ল্যান করে যান তাই ৩ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যান করে দিচ্ছি যাতে আপনার কাঙ্ক্ষিত প্ল্যানটি সহজেই পেয়ে যান।

এক রাতের প্ল্যান যাদের তাদের জন্যঃ 

আপনাদের হাতে ২ দিন ১ রাত সময়। এই সময়ের জন্য বেস্ট পসিবল প্ল্যান দিচ্ছি। আপনারা চাইলে নিজেরা কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। সকালে চেক ইন করবেন ১২টায়। তারপর সব গুছিয়ে ১ টার দিকে সমুদ্র চলে যান। গোসল ফটোগ্রাফি সব সেরে ২ টার মধ্যে চলে আসেন হোটেলে। সেখান থেকে দুপুরে পৌষি / ঝাউবনে খাওয়া দাওয়া করে অটো নিয়ে চলে যান হিমছড়িতে। সেখানে কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করে সানসেট দেখতে চলে যান ইনানী বিচে। সন্ধ্যার পর ফিরে এসে একটু রেস্ট নিয়ে বার্মিজ মার্কেট / শহরে কেনাকাটা সব সেরে ফেলেন। কারন কাল আর সময় পাওয়া যাবে না কেনাকাটার জন্য।

ছুটি গ্রুপের ট্যুরে নিসর্গ হোটেলের রুফ টপ থেকে (সুইমিং পুল এর পাশে)

২য় দিন সকালে ৭টায় নাস্তা করে অটো নিয়ে ট্রলার ঘাটে চলে যান। অটো ওয়ালাকে বলে নিবেন মহেশখালি যাবো। ঘাটে গিয়ে স্পীডবোট রিজার্ভ নিতে পারেন / অন্যদের সাথে শেয়ারেও যেতে পারেন। মহেশখালি গিয়ে রিকশা নেয়ার দরকার নেই। হেটেই সব দেখা যায়। দুপুর হলে ঘাটে এসে কক্সবাজার ব্যাক করে অটো নিয়ে হোটেলে। দুপুরে খেতে পারেন হান্ডি রেস্টুরেন্ট এ (বিরিয়ানি হলে) রান্নাঘর এ (বাংলা ফুড চাইলে)। খাওয়া দাওয়া সেরে লাবনি বিচে যেতে পারেন তারপর সন্ধ্যার পর ব্যাগ নিয়ে বাস কাউন্টারে।

সিন ইন পয়েন্ট বিচে ছুটির কক্সবাজার ট্যুরে

দুই / তিন রাতের প্ল্যান যাদের তাদের জন্যঃ 

প্রথমদিনঃ সকালে চেক ইন করবেন ১২টায়। তারপর সব গুছিয়ে ১ টার দিকে সমুদ্র চলে যান। গোসল ফটোগ্রাফি সব সেরে ৩টার মধ্যে চলে আসেন। তারপর পৌষিতে চলে যান দুপুরের খাবার খেতে (নিউ পৌষিতে যাবেন, ওল্ড টা তে না)। বিকেলে সি ক্রাউন এর সামনে কিটকটে সানসেট এঞ্জয় করতে পারেন। প্রথমদিন রিলাক্সে কাটালেন আর কি। রাতে ডিনার করতে পারেন লাইভ ফিশ রেস্টুরেন্টে বা প্রসাদ প্যারাডাইস এর ফিশ বার বি কিউ (সেরা)।

২য় দিনঃ পারলে আগের দিন একটা চান্দের গাড়ি ম্যানেজ করে রাখবেন বা, হোটেলে বললেও ওরা ম্যানেজ করে দিবে। অথবা ৪-৫জনে ব্যাটারি চালিত অটো নিতে পারেন। নাস্তা করে অটো নিয়ে চলে যান হিমছড়ি। হিমছড়িতে লোকাল ছোট একটা বাজার আছে। পাহাড় এ উঠে বিশাল সমুদ্র দেখা যায় বাইনোকুলার দিয়ে। বাচ্চারা খুব মজা পাবে। এরপর একই রোডে চলে ইনানি বিচে সেখানে বিচ বাইক দিয়ে ঘুরতে পারবেন আর সৈকত অনেক পরিষ্কার আর ওয়াইড এখানে। ভালো লাগবে। ক্ষিদা লাগলে ব্যাটারি করে শহরে ফিরে আসেন এবার ঝাউবন রেস্টুরেন্ট চলে যান। লইট্টা ফ্রাই মাস্ট ট্রাই।

বিকেলে বার্মিজ মার্কেট, কক্সবাজার শহর থেকে অটো নিয়ে যেতে হয় আদিবাসি মার্কেট গুলোতে ভাবিকে ছেড়ে দেন। কারন শেষদিন কেনাকাটা করা খুবই প্যারা, দ্বিতীয় দিন আরামে সময় নিয়ে কেনাকাটা করতে পারবে। কিছু বাদ দিলে ৩য়দিন হুট করে এসে কিনেও নিয়ে যেতে পারবে। সন্ধ্যার পর লাবনি বিচে যেতে পারেন যেহেতু সি ক্রাউনে আছেন এই বিচ আসা হবে না একেবারেই। রাতের খেতে চলে যান সি ল্যাম্প বিচ ক্যাফে (01811-599865) দেইখেন অটো যেনো ভুলটাতে না নেয়। কাছাকাছি নামে ২/৩ টা আছে কিনা।

মেরিন ড্রাইভ রোড, কক্সবাজার

৩য় দিনঃ সকালে ৭টায় নাস্তা করে অটো নিয়ে ট্রলার ঘাটে চলে যান। অটো ওয়ালাকে বলে নিবেন মহেশখালি যাবো। ঘাটে গিয়ে স্পীডবোট রিজার্ভ নিতে পারেন / অন্যদের সাথে শেয়ারেও যেতে পারেন। মহেশখালি গিয়ে রিকশা নেয়ার দরকার নেই। হেটেই সব দেখা যায়। দুপুর হলে ঘাটে এসে কক্সবাজার ব্যাক করে অটো নিয়ে হোটেলে। দুপুরে খেতে পারেন হান্ডি রেস্টুরেন্ট এ (বিরিয়ানি হলে) রান্নাঘর এ (বাংলা ফুড চাইলে)। খাওয়া দাওয়া সেরে রেস্ট। বিকেলে সি ফিশ মিউজিয়াম আছে একটা শহরেই। বাচ্চাদের ওখানে নিয়ে যেতে পারেন।

৪র্থ দিনঃ সকালে উঠে ব্যাগ / ব্যাগেজ হোটেলের ফ্রন্ড ডেস্কে দিয়ে দিন। অথবা, একটা রুম রেখে দিতে পারেন সব ব্যাগ ব্যাগেজ আর দুপুরে ফ্রেশ হওয়ার জন্য রেস্ট নেয়ার জন্য। তাহলে সারাদিন ঘুরে কাটাতে পারবেন আরামে। এদিন টা নিজের ইচ্ছেমতো ফ্রি লি ঘুরাঘুরি করেন। রামু বৌদ্ধ মন্দির আছে, চাইলে রামু তে ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া নিজের মতো করে প্ল্যান সাজিয়ে নিতে পারেন। অথবা, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ঘুরে আসতে পারেন। সাথে বাচ্চাকাচ্চা থাকলে দারুন সময় কাটবে।

প্যারাসেইলিং করতে চাইলেঃ প্যারাসেইলিং কক্সবাজারের নতুন আকর্ষন। হিমছড়ির পরে দরিয়া নগর এলাকায় (বেশি দূরে না) ১০০ টাকা অটো ভাড়া নিবে। দিনের বেলা আবহাওয়া ভালো থাকলে প্যারাসেইলিং করে আসতে পারেন। ওদের মূলত ১৫০০ এবং ২৫০০ এর ২টা প্যাকেজ আছে। দুই প্যাকেজেই মিনিট পাচেকের মতো সময় আপনাকে সমুদ্রে ঘুরিয়ে আনবে। তবে ২৫০০টাকার প্যাকেজে আপনাকে সমুদ্রে ভিতর ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে এবং আপনার পা পানিতে ভিজিয়ে উপরে তুলে আনবে (সত্যতা জানি না)।

কি খাবেন? 

খাওয়া দাওয়া নিয়ে সবার বিশাল টেনশন থাকে। মূলত সবচেয়ে বড় ঝামেলা হচ্ছে থাকবো মাত্র ১-২ দিন এর মধ্যে কতই বা খেয়ে শেষ করা যায়। তাই সবাই চায় বাজেট কম বেশি যা ই হোক যাতে বেস্ট ফুড ট্রাই করে যেতে পারে তৃপ্তিসহকারে। সেকারনেই শুধু খাবার হোটেল নিয়েই একটা ব্লগ লিখেছি। কক্সবাজার এর বিখ্যাত সব খাবার দাবার হোটেল নিয়ে আমার লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন। 

পৌষি হোটেল, কক্সবাজার

কোথায় থাকবেন?

একেক জনের থাকার বাজেট একেক রকম। কারো বা কোন রকমে রাত পার করলেই চলে কেউ বা সারাবছর জব করে ২টা রাত একটু লাক্সারি রে আরামে কাটাতে চান। তাই সব ধরনের বাজেটের হোটেলর নাম এবং ফোন নাম্বার দিয়ে দিচ্ছি। আপনাদের সুবিধে মতো যোগাযোগ করে বার্গেইন করে ডিস্কাউন্ট নিয়ে নিবেন।

লেভেল-১ (কম বাজেটে) এর মধ্যেঃ

হোটেল অস্টার ইকো (01777-631691), ইকরা বিচ হোটেল (01732216677), হোটেল মিশুক (01715946471), হোটেল সি আলিফ (01715755112), হোটেল মেরিন প্লাজা (01816742464), হোটেল বিচ ওয়ে (01777909595), বে টাচ হোটেল (01915458398)।

লেভেল-২ (মাঝামাঝি বাজেট) এর মধ্যেঃ

ডিভাইন ইকো রিসোর্ট (01715218501), হোটেল প্রাইম পার্ক (01775609915, 01842609915), বসতি বে হোটেল (01821940430), প্রসাদ প্যারাডাইস (01556-347711), মারমেইড ইকো রিসোর্ট (01841416464)।

লেভেল-৩ (বেশি বাজেট) এর মধ্যেঃ

নিসর্গ হোটেল (01617834400), সীগাল হোটেল (01766666530), হোটেল দ্য কক্স টুডে (01755598450), হোয়াইট অর্কিড (01825923989), সায়মন বিচ রিসোর্ট (01755691917), ওশান প্যারাডাইস হোটেল (01938846763-7), লং বিচ হোটেল (01755660051), হোটেল সী ক্রাউন (01817089420), র‍্যয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (01844016001), মারমেইড বিচ রিসোর্ট (01841416468)।

যারা কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন ঘুরে আসতে চানঃ

কক্সবাজার গেলে অর্ধেকের ও বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিন ঘুরে আসে কারন এক ঢিলে দুই পাখি মারা যায়। বার বার এত বড় পথ জার্নি করাও কষ্টসাধ্য। তাই যারা কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যেতে তারা যেদিন চেকআউট করবেন সেদিন খুব ভোরে বাসস্ট্যান্ড চলে যান। সকাল সকাল বাসে উঠলে ৯ টার আগে বাস আপনাকে টেকনাফ ঘাটে নামিয়ে দিবে। অথবা, লোক বেশি হলে চান্দের গাড়ি ভাড়া করতে পারেন ওরা সকালে হোটেলে এসে আপনাদের পিক করে ৯ টার মধ্যে টেকনাফ ঘাটে পৌছে দিবে। এতে মেরিন ড্রাইভ রোড ও ঘোরা হয়ে যাবে পুরো ৮০ কিলো। যেকোন হেল্পের জন্য হোটেলে হেল্প চাবেন, তারা হেল্প করবে। আর সেন্টমার্টিন কি খাবেন, কোথায় ঘুরবেন, কোথায়  থাকবেন এই সংক্রান্ত আমার লেখাটি ফলো করতে পারেন।


ভ্রমন সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন / ইনফরমেশন লাগলে আমাকে ফেসবুকে নক করতে পারেন। অথবা, আমার ফেসবুক ট্রাভেল গ্রুপ “ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ” এ পোস্ট করলে আমাদের সহযোগিতা পাবেন। 

TAGS

মন্তব্যসমূহ / আলোচনা