বৈঠাকাটা – ইতিহাস, ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ ভাসমান বন্দর

বৈঠাকাটা নাম শুনলেই ধারনা পাওয়া যায় বৈঠা সংক্রান্ত কিছু একটা। আসলেই তাই! নৌকার বৈঠা দিয়ে কাটা হয়েছিলো বৈঠাকাটা খাল তারপর থেকেই জায়গার নাম বৈঠাকাটা আর বাজারের নাম বৈঠাকাটা বাজার। তবে, জায়গা বা, সাধারন বাজারের জন্য বৈঠাকাটা বিখ্যাত নয়। বৈঠাকাটা বিখ্যাত তার ভাসমান বাজারের ও ভাসমান চাষ পদ্ধতির জন্য। বাজার বললেও মূলত এটি একটি বন্দর।

সপ্তাহের শনি আর মঙ্গলবার এই ভাসমান বাজার বসে বৈঠাকাটা খালে। আমি গিয়েছিলাম বৃহস্পতিবার তাই ভাসমান বাজার দেখার সৌভাগ্য হয় নাই। তবে, শাইখ সিরাজের বৈঠাকাটার প্রতিবেদন দেখেই প্রথম শখ জাগে এই জায়গায় যাওয়ার তাই সুযোগ পেয়েই বৈঠাকাটা ঘুরে আসলাম।

বৈঠাকাটা খাল

সদরঘাট থেকে লঞ্চে সরাসরি বৈঠাকাটা যাওয়া যায় তবে এমভি যুবরাজ-১ লঞ্চে। তবে, আমি গিয়েছিলাম স্বরূপকাঠি সেখান থেকে ইন্দ্রেরহাট তারপর সেখান থেকে নৌপথে বৈঠাকাটা। যুবরাজ লঞ্চটা ছোট তাই সরাসরি না গিয়ে স্বরূপকাঠি এসে তারপর নৌকায় ইন্দ্রেরহাট থেকে বৈঠাকাটা আসাই ভালো।

ইন্দ্রেরহাট থেকে বৈঠাকাটা যাত্রাপথে

এতে সুবিধে হচ্ছে ইন্দ্রেরহাট থেকে বৈঠাকাটা যেতে পথে দারুন কর্মব্যস্ত একটা নৌপথ দেখতে পারবেন আর ছবি তোলার পোকা মাথায় থাকলে ছবি তোলার জন্য পাবেন দারুন সব সাবজেক্ট।

বৈঠাকাটা বন্দরকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। মুলত বৈঠাকাটা একটি নাম, একটি প্রেরনা, একটি আশ্রয় স্থল, একটি জনসমাবেশ, একটি ইতিহাস, একটি ঐতিহ্য, একটি সাংস্কৃতির লালনকেন্দ্র, একটি জাগরন, একটি চেতনা, একটি আশা এ এলাকার সবস্তরের জনসাধারণের জন্য।

এরকম ছোটখাটো অনেক ভাসমান বাজারের দেখা মিলবে

ভাসমান বাজারের সূচনা হয় ১৯৪২ সালের দিকে যা প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে। সম্পূর্ণ এলাকা নদী আর খালবিল থাকায় এই বাজার জনপ্রিয় হয়ে উঠে। চারিদিকে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ভাসমান বাজারে কৃষিপন্য, সব্জি, চাল, ধান, নারিকেল, সুপারি, আখ, ধানের বীজ, ধইঞ্চা, পাট, কাঁঠাল, তরমুজ, সাদা আখ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত শ্যাওলা, টোপা পানা, নারিকেলের ছোবড়া, ইত্যাদি বিচিত্র পন্য ক্রয় বিক্রয় শুরু হয়।

তেমনি স্থলবন্দরে মোটা মুড়ি, আখের রসের গুড়, সব্জির চারা, মাছ ধরার জন্য দোয়ায়িড় (চাই) আম, কাঠাল, তরমুজ, আটা, অস্থায়ী ভাবে মুদি সামগ্রী বিক্রেতা যাকে গ্রামের ভাষায় বাহালী দোকান বলা হয়, নারিকেলের ছোবড়ার আঁশ, কাতরা দড়ি, হাস-মুরগী, কবুতর, বিভিন্ন ধরনের পাখি ইত্যাদি।

ইন্দ্রেরহাট থেকে বৈঠাকাটা যাত্রাপথে

বৈঠাকাটার প্রকৃতিঘন সবুজ -শ্যামল পরিবেশ, নদী-খাল, ছোটো ছোটো যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক­ নৌকার ছন্দময় চলাচল, নৌপথ আর সড়ক পথের সমান্তরাল বয়ে চলা, বার বারই আকৃষ্ট করে স্বদেশী ও বিদেশী পর্যটকদের। পথে দেখা যায় নানা বয়সের মানুষের হাজার রকমের কর্মযজ্ঞ।

বৈঠাকাটার উপর শাইখ সিরাজের প্রতিবেদনঃ 

কিভাবে যাবেন? 

সদরঘাট থেকে হুলারহাটের লঞ্চে উঠবেন (এমভি রাজদূত ৭, অগ্রদূত প্লাস, এমভি ফারহানের ও ২টা লঞ্চ আছে)। সন্ধ্যার ৬-৭ টার মধ্যে সব লঞ্চ ছেড়ে যায় পৌছায় সকাল ৭ টার দিকে আনুমানিক। ডেকে ভাড়া ৩০০ টাকার মতো আর কেবিন সিঙ্গেল ১২০০, ডাবল ২০০০ এর মতো। শীতকাল ই যাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কেবিনে যেতে চাইলে ১০-১৫ দিন আগে বুকিং করে রাখতে হবে। স্বরূপকাঠি নেমে ৫টাকা ভাড়া দিয়ে সন্ধ্যা নদীর ওপারে ইন্দ্রেরহাট যাবেন তারপর বাজারে নাস্তা সেরে বৈঠাকাটা ঘাট যে কাউকে বললেই দেখিয়ে দিবে। ঘাটের প্রথম ট্রলার ছাড়ে ৮টা ৩০ মিনিটে। চেষ্টা করবেন প্রথম ট্রিপটি ধরতে কারন এরপর দ্রুত রোদ উঠে যায়।

বৈঠাকাটা ঘাটি থেকে তোলা বাজারের ছবি

বৈঠাকাটা যেতে ভাড়া নিবে মাত্র ২৫টাকা (দেড় ঘন্টার যাত্রা)। সকাল ১০টায় পৌছে ২-৩ ঘন্টা ঘুরে আবার ঘাট থেকে নৌকায় উঠে স্বরূপকাঠি ফেরত আসতে পারেন বিকেল ৪-৫ টার মধ্যে লঞ্চে ফিরতি ট্রিপে ঢাকা ব্যাক করতে পারবেন। এছাড়া বৈঠাকাটা থেকেও এমভি যুবরাজে ঢাকা ফেরত আসতে পারবেন সেক্ষেত্রে স্বরূপকাঠি ব্যাক করার প্রয়োজন নেই। সিদ্ধান্ত আপনার। ঝামেলা মনে হলে যুবরাজে আসাই বেটার।


ভ্রমন সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন / তথ্য / ট্যুর প্ল্যানের জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপ ছুটি ট্রাভেল গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। ছুটির সব মেম্বার খুবই হেল্পফুল, সুন্দর একটি ট্যুরের জন্য সকল হেল্প এখানে পাবেন। এছাড়া আমি ছুটির সাথে প্রতিমাসেই ট্যুর দিয়ে থাকি চাইলে ছুটির ইভেন্টেও জয়েন করতে পারেন। ছুটি একটি ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি ট্রাভেল গ্রুপ তাই নিশ্চিন্তে যেতে পারেন দেশের যেকোন প্রান্তে। 

ফেসবুক গ্রুপ – ছুটি ট্রাভেল গ্রুপ (https://fb.com/groups/ChutiTravelGroup)

মন্তব্যসমূহ / আলোচনা