Tag Archives: স্কার্টের জন্য …

স্কার্টের জন্য …

আমার এক ফ্রেন্ড ছিল ছোটবেলার। যতটুকু জানি ঢাকাতেই আছে। তবে প্রায় ৮/৯ বছর দেখা সাক্ষাত নাই। ওর নামের কারনে ও এক অদ্ভুত সমস্যায় পরত সব সময়। নামটি এমন ছিল যে কেউ যদি একবার শুনে সেটি ভুলতো না কেউ। এতই হাস্যকর।

ওর সাথে এত ভালো বন্ধুত্ত ছিল অথচ যেদিন থেকে আলাদা হয়ে গেলাম তার আগে সেটা বুঝতে পারিনি। স্কুল দুপুর ১টায় ছুটি হতো। বাসায় আসতে লাগতো ১০ মিনিট। কিন্তু আমরা কোনদিন ২টার আগে বাসায় আসতে পারিনাই। কিভাবে যে এই ১ ঘন্টা যেত সেটা যদি হাতে ঘড়ি পরাও থাকতো তাও টের পেতাম না।

২ টায় বাসায় এসে তাড়াতাড়ি করে খেয়ে বের হয়ে যেতাম খেলতে। আর ওর তখন হুজুর আসতো আরবি পড়াতে। হুজুর এর কাছে পড়া মিস দিলে ওর খবর হয়ে যায়। তাও প্রায় দিনই হুজুর আসার আগে আগেই ওকে বাসা থেকে টেনে বের করে আনতাম। খেলবিনা মানে, তোর বাপ ও খেলবে। আর ও কত কি ডায়ালগ মারতাম।

না পড়ার কারনে প্রায়ই দিনই ওর মাইর খাওয়া লাগতো। তাও যদি বিন্দুপরিমান ছাড় দিতাম ওকে। প্রতিদিন ওকে বাসা থেকে বের করে একসাথে মাঠে যেতাম গলা জড়াজড়ি করে। আর ফাজলামি করতে করতে। ও ওর বা পা দিয়ে পিছন দিয়ে আমায় লাথি দিত। আমি ও দিতাম। কিন্তু মারামারি পর্যন্ত যেত না কারন তার আগেই মাঠে পৌছাই যেতাম প্রতিদিন।

আমরা কখনোই একদলে খেলতাম না। দুজনেই একটু পাকা ছিলাম কিনা। তাই দুদলের ক্যাপ্টেন হতাম দুজন। আর এমন কোন দিন যায় নাই যে খেলার মাঝে মারামারি হয় নাই। নাক মুখ কাটাছিরা করে সেইরকম অবস্থা হয়ে যেত দুজনের। কিন্তু ওই খেলা পর্যন্তই সব কিছু। সন্ধার সময় বাসায় যেতাম আবার গলা জড়াজড়ি করে ফাজলামি করতে করতে। সব কিছু ভুলে যেতাম অটোমেটিক। কিছুক্ষন আগেও মারামারি করছি সেটাও বেলালুম ভুলে যেতাম।
একদিন আব্বুকে বললাম একটা ব্যাট কিনে দেয়ার জন্য। সবার ব্যাট আছে আমার নাই শুনে আব্বু একটা ব্যাট কিনে দিল। ওইদিন মাঠে খেলতে গেলাম। দেখি বড়ভাইরা আগে এসেই খেলা শুরু করে দিছে। তাই আমরা বাসার সামনে পাকার উপরেই খেলতে শুরু করলাম। প্রথম বলেই ও কি করলো এমন ভাবে ব্যাটটা পাকায় মারলো হাতল এক জায়গায় আর ব্যাট আর এক জায়গায়। আমার জীবনের প্রথম ব্যাটের এই অবস্থা দেখে আমার তো মাথা পুরা আউলা।

ও ভাবসে ওরে মাইরা আজ শেষই কইরা দেই নাকি। কিন্তু কেন জানি ওকে কিছুই বলি নাই। একবারে নাথিং। সবাই মিলে আর একটা ব্যাট দিয়ে খেললাম। খেলা শেষে বাসায় যাওয়ার সময় আমাকে বললো তুই আমারে মারলি না কেন ? আমি কি বলবো বুঝতেছিলাম না। সামান্য চকলেট নিয়েও মারামারি করতাম আমরা। আর এটা তো কত প্রিয় একটা জিনিস আমার। তাও বললাম, একটা ব্যাট ভাঙ্গছে ত কি হইছে। এর জন্য তোরে মারবো? ও আর কিছু বললো না। ওর হাতের পেপসি ব্যাটটা আমার হাতে দিয়ে বললো এইটা তুই নিয়া যা। প্রতিদিন খেলার সময় নিয়া আসবি। আমি বললাম আমার কাছে রাখবো কেন? তোর কাছেই তো রাখস। বললো, এইটা আজকে থেকে তোর।

আমি অনেক অবাক হইলাম। এই ব্যাট টা অনেকের প্রিয় একটা ব্যাট ছিল অনেক বড় ভাইরা ওর কাছ থেকে কিনতেও চাইছিল অনেক টাকা দিয়ে। অরিজিনাল পেপসি ব্যাট ছিল তাই। কিন্তু ও দেয় নাই। আমি জানি ব্যাটটা ওর কত প্রিয় ছিল। আমার চোখ দিয়ে পানি এসে গেছিলো। আমি ওকে বললাম লাগবো না। তোর কাছেই রাখ। কিন্তু এইটা আমাগো দুইজনের ব্যাট। ও এত খুশি হইছিল তা বলার বাইরে। আমি কিভাবে লেখে সেই খুশি পরিমান টা বুঝাবো বুঝতেছিনা।
এই ঘটনার পর থেকে আমরা আর মারামারি করতাম না। তার কিছুদিন পরই আমরা ট্রান্সফার হয়ে যাই। দুইজন দুজনের জন্য অনেক কিছু সেক্রিফাইস করছি আমরা। কি কি করছিলাম তা শুনলে এখন সবাই মুচকি হাসবেন। তাই আর এই ব্যাপারে কিছু না বলি। এ নিয়ে পরে আর একদিন লিখবো।
আমার এই বন্ধুটাকে এখন আমার অনেক দরকার। অনেক। কই আসিস তুই? কেমন আসিস? আমাকে কি মনে আছে তোর?

খুব মাইয়্যাগো পিছে ঘুরস ? তোর চেহারা ছুরত ভালো। ঘুইরা লাভ আছে। আমারে দিয়া এইসব হয়নাই হবে ও না। তাই হয়তো এখন যারা মেয়েবন্ধু তারা আমাকে ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনা। ২ দিন পর পর ঝামেলা লাইগ্যা যায়। আমি নিজেও অনেকটা বুঝিনা। কি করবো বল !!

বন্ধুত্তের সংজ্ঞা অনেক পরির্বতন হয়ে গেছে রে। আমাদের সেই সংজ্ঞা আর নাই। সবকিছুই অসংজ্ঞায়িত !!
মাঝে মাঝে মনটা ঢুকরে কেদে উঠে। তোদের সাথে না চললেই ভালো হতো। এমন মনমানসিকতা তৈরী হতো না। তোরা ই আমারে নষ্ট করলি। দেখ সবাই আপডেটেড হয়ে গেছে আর আমি পরে আছি সেই পুরাতন সব ধ্যানধারনা নিয়ে।
যাই হোক, প্যাচাল শেষ করলাম। ওহ ভুলে গেছিলাম ! আমার দোস্তের নামটি বললাম না, ওর নাম ছিল স্কার্ট।