Tag Archives: একজন ছোট মহাপুরুষ !

একজন ছোট মহাপুরুষ !

প্রতিদিন কি হয় আমার !!
একটা সময় যায় যখন মনে হয় সময় থমকে যায়, আশে-পাশের কোলাহল, ব্যস্ততা চুপিসারে আমাকে পাশ কাটিয়ে যায়। তারা মনে করে আমি টের পাইনা, কিন্তু আমি টের পাই। আমি টের পাই সেটাও যখন শয়তান আমার মনের গভীরে ঢুকে সবকিছু যেন টেনে ছিড়ে এনে কুচিকুচি করে কাটে।
আমি হতাশা-বাদিদের দলে না, এর মানে অবশ্য এই না যে আমি সহজে হতাশ হই না। স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশিই হতাশ হই আমি। তার যথেষ্ট কারন ও আছে।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে (১/২ টা কে যদি আদৌ সকাল বলা হয়) উঠে একগাদা টুথপেস্ট খেয়ে কোনরকমে রাস্তায় এসে মামা ৩২ নং চলেন। তারপর যা হওয়ার তাই হয়। ঘ্যানর ঘ্যানর প্যানর প্যানার শুনে বিকালে ঘরে ফিরা। এর মাঝে অবশ্য উদরপূর্তি করার জন্য কয়েক জায়গায় দৌড়া-দৌড়ী করি না তা না।

বিকালে ঘরে ফিরে আবার সেই বিছানার উপরে , আর বিছানায় না গেলে তো ফেসবুক/ব্লগ/গ্রুপ এইসব আছে ই। এরা ই এখন জীবনের অন্যতম বন্ধুর ভূমিকা পালন করতেছে। যেখানে আগে থ্রী-কোয়ার্টার পরে মাঠে ধাপাধাপি না করতে দিলে বাসায় কেঁদেকেটে সবাই কে অস্থির করে তুলতাম।
সারারাত এভাবেই চলবে ….

সকালে পাখির ডাক তো আর এই যান্ত্রিক জীবনে শুনা হয় না, তবে বাসার কাছাকাছি মসজিদ থাকায় আজান কানে আসে। সাথে সাথে সবার ঘুম থেকে উঠা শুরু হয় আর তখন আল্লাহর এই বান্দা চেষ্টা করে কিভাবে এখন ঘুমিয়ে ১০/১১ টায় উঠে সকালের ক্লাসটা ধরতে পারবে। এই ধরা ধরি করতে করতেই প্রতিদিন কখন ঘুমাই টের পাইনা।

সপ্তাহে ২/১ দিন যদি কেউ একজন ফোন করে বলে আমার কুমড়া মুখ-খানা দেখবে, সেটা নিয়েও আমার বিস্তর আলসেমি। আজ না কাল , কাল না পরশু। এইভাবে চলতে থাকে।এইজন্য আমার খারাপ লাগে না সেটা ভাবলে তাদের দোষ দেয়া মোটেও ঠিক হবে না। কিন্তু আমি কোন মুখ নিয়ে বলবো যে আসলে আমি এমন ই।

মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে ভালো সময় কাটাই , কিন্তু অস্থির থাকি এই ভেবে যে সবই ক্ষনিকের। জীবনের শেষ মূহর্ত পর্যন্ত কয়টা জিনিস ধরে রাখতে পারবো আমি ? কেউ কেউ হয়তো বলবেন, ধরে রাখার কি দরকার, এখন উপভোগ কর না বাপু। কিন্তু আমি হারাতে খুব ভয় পাই। এখনকার বর্তমান আনন্দ কি আমার পরর্বতী কষ্টের চেয়ে দামি ?

আমি জানি , আমি অনেকের চোখে বিষরুপ। না হয়ে উপায় থাকে না যে, আমি তো অন্যের কানে কানে বলতে পারি না “আজ না সানি ওই মেয়েটের ওই খানে হাত দিয়েছে ” আমি খারাপ কারন আমি তর সামনেই তোকে বলি কেন আজ রাতে না খাইলে হইতো না ?

এইহলো জীবন , আমার জীবন। আমার নিজের জীবন। নজরুল এর বৃদ্ধদের মতো সবকিছু আকড়ে ধরে রাখতে চাই। অনেক সময় পার হয়ে গেছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে। ২৪ ঘন্টার জীবন হিসেব করলে আর হয়তো ১০/১২ ঘন্টা বাচবো। তারপর সব অন্ধকার !! নিশ্চুপ কালো অন্ধকার !!!
কিন্তু এর মাঝেই কি সব শেষ ? মনে হয় শেষ না, নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু মাত্র – –
যখন শীতের দুপুরে গ্রাম্য বালক রোদকে দেয় পাহারা
যখন কলমীলতার বুকে হাজার রঙের প্রজাপতি করে খেলা
যখন কাকড়া ছানা কচুরীপানা আকড়ে ধরে
তুমি তখন পাবে আমাকে এরি মাঝে!