আমাদের ক্লাস এ না আসার কাহিনী আর কিঞ্ছিত ভাব সম্প্রসারন

আমাদের একজন বিখ্যাত বন্ধু আছে যিনি কখনোই ক্লাসে আসেন না। আসলেও আমরা ধরে নেই ভুল করে রুটিন মিসটেক অথবা অন্য কোন কারনে অসময়ে অপ্রতাশিত ভাবে তিনি এসেছেন। যাই হোক, তার কাছ থেকে জানতে খুব ইচ্ছা হয় ভাই কেন আপনি ক্লাসে আসেন না ? যদি কারো হাতে সময় না থাকে এই নোট পড়ার দরকার নাই।

আর সময় থাকলে অবশ্যই একটু মনযোগ দিয়ে পড়বেন।

 

তো, তাকে প্রশ্ন করলাম “আপনি ক্লাসে কেন আসেন না ? ”

তার উত্তরঃ – আমার পড়ানুর সিস্টেমটা ভাল্লাগেনা। যেভাবে পড়ানু উচিত কেউ ই সেভাবে পড়ায় না।

আমি বললামঃ “কেমন সিস্টেম আপনি চান ?”

তিনি বললেনঃ এখানে কিছু একটা শিখানুর চেয়ে পাস করা আর জিপিএ এর গুরুত্ত অনেক বেশি।

আমি বললামঃ “এটা কি খুব খারাপ কিছু? ”

 

তিনি বললেনঃ না তা না, তবে এধরনের বিভাগে পড়াশোনা হওয়া উচিত প্রোজেক্ট বেজ। হোক না সেটা ফার্স্ট সেমিস্টার অথবা লাস্ট সেমিস্টার। তবে এখন প্রোজেক্ট বিষয়ক পড়াশোনা হচ্ছে তবে এখানে ও একটা সমস্যা আছে সেটা হলো।, প্রোজেক্ট টা এমন হতে হবে যাতে সত্যি কিছু শিখা যায় , নাম কামানুর জন্য প্রোজেক্ট করার দরকার নাই অথবা আমি আগে কি কি শিখছি সেটার Judgement এর জন্যও প্রোজেক্ট করার দরকার নাই। এই মূহুর্তে টিচার দের দিকে একটু লক্ষ্য করেনঃ তারা কিছু কিছু ছাত্র ছাত্রীকে এমন প্রোজেক্ট দিছে যেটা তাদের বাধ্যতামূলক করতে হবে। আর অন্যরা নিজেরা যা যা চিন্তা করে আইডিয়া বের করছে স্যারদের পছন্দ না হলেও জোড় করে অন্য কিছু না দিয়ে তাদেরটাই করতে অনুমতি দিছে। প্রশ্ন হলো, টিচার’রা কেন গুটিকয়েকদিগকে বাধ্যতামূলক দিলো ? সবাইকে কেন দিলো না ? অথবা, সবাইকে কেন পছন্দ মত যার যার প্রোজেক্ট বাছাই করতে দিলো না ? – ১ম প্রশ্ন। 

 

 

২য় প্রশ্ন, টিচার রা ভালো ভাবেই জানে আমরা কেউ প্রোজেক্ট কমপ্লিট করতে পারবো না, কারন ফুল একটা ডায়নামিক প্রোজেক্ট করানুর জন্য যা যা দরকার সেসব আমাদের শিখানু হয় নাই। কিছু কিছু শিখানু হলেও যা জোড়াতালির সমতুল্য।

 

১ম প্রশ্নের উত্তরঃ স্যার রা (যাদের বাধ্যতামূলক নির্দিষ্ট একটা টপিক এর উপর  প্রোজেক্ট দিছে ) চায় তারা পেপার করুক। যেটা নেক্সট এ কোন সেমিনার এ দেখাইতে পারে যে সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্ট রিসার্চ করছে। এতে আমাদের ডিপার্টমেন্ট অনেক একটিভ সেটা প্রমান হবে। কিন্তু ভিতরের রুপটা কি ? সদরঘাট নয় কি ?

 

 ২য় প্রশ্নের উত্তরঃ স্যার রা আসলেই চায় না আমরা নতুন কিছু শিখি। তারা চায় পুরানু শেখা জিনিস গুলা ফরমালি এপ্লাই করি। যেমনঃ প্রোজেক্ট ম্যানেজম্যান্ট, সফটওয়্যার ডকুমেন্টেশন ইত্যাদি (প্রোজেক্ট কি হলো সেটা ইম্পর্টেন্ট না)। আর একটা জিনিস তারা চায় সেটা হলো, ফোকাসিং (আমরা কিছু শিখি আর নাই বা শিখি)। যেমনঃ রুটিন ম্যানেজম্যান্ট তৈরী করার চেয়ে যদি কেউ অন্য রকম ডায়নামিক কিছু একটা তৈরী করতে চায় তাহলে অনেক বেশি কিছু ই সে জানবে এবং শিখবে। কিন্তু স্যারদের রুটিন ম্যানেজম্যান্ট ই অনেক পছন্দ। কারন এতে ভার্সিটির বিভিন্ন প্রোজেক্ট ফেয়ার থেকে শুরু করে উচ্চপ্রদস্থ লোকদের দেখানু যাবে যে সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্ট অনেক একটিভ তারা ম্যানেজম্যান্ট প্রোজেক্ট করছে একটা। আর যদি রুটিন ম্যানেজম্যান্ট প্রোজেক্ট হাইলি ডেভলপ করতে পারে তাহলে তো কথাই নাই। ভার্সিটতে ও এটা ব্যবহার জন্য গুতাগুতি করা যাবে। উচ্চপ্রদস্থ দের মন ও অনেক খুশি হবে।

 

আমি বললামঃ এটা কি একটু বেশি হইলো না? ভার্সিটি তো নিজেই এসব বানাই নিতে পারে, তাই না ?

তিনি বললেনঃ না। মোটেও বেশি না। কাজটা সিম্পল অথবা অনেক ভালো সেটা সমস্যা না, ফ্রী অথবা টাকা দিয়ে বানাবে এটা ও সমস্যা না। ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে , কাজটা যা ই হোক সেটা সফটওয়্যার বিভাগ কে রিপ্রেজেন্ট  করতেছি। তার মানে সেই “ফোকাসিং” , যা করা খুব ই দরকার বলে আমাদের টিচার’রা মনে করেন।

 

এতসব নানা কারনে তিনি ভার্সিটি মুখো হন না। আশা করি তিনি একসময় ভার্সিটি মুখী হবেন। 😛

 

 ———– আমরা আসলে যাচ্ছি কোনদিকে? আমাদের ভবিষৎ ই বা কি ? চার বছর পর সার্টফিকেট আর জিপিএ ছাড়া কি পাবো আমরা ? ৬/৭ বছর পর কি আমরা স্যার দের পায়ে ধরে সালাম করতে পারবো ? নাকি দূর থেকে দেখে খারাপ গালি দিয়ে বলবো, এর জন্যই আমার জীবন টা নষ্ট হলো !!  ?? Questions upon to you guys !!

 

এখানে হয়তো অনেক কিছু ভুল অনেক কিছু সঠিক। কিন্তু ভুল / সঠিক যা ই হোক না কেন আমাদের ভবিষৎ কিন্তু এক ই। আশা করি সমগ্র ব্যাপার আমরা রিয়ালাইজ করতে পারছি।

 

“- ছোটদের অনেক কিছু বুঝতে সমস্যা হতে পারে। কারন তারা এখন ও এই সময়গুলা পার করে নাই। “

 

Leave a Reply