HELPING SMALL BUSINESS
SUCCEED
It doesn't take a genius to start and build a successful business
LET ME SHOW YOU HOW
Fav Writings

মন ঠিক জানে তুমি কী হতে চাও : স্টিভ জবস

স্টিভ জবস ১৯৭৬ সালের দিকে বন্ধু স্টিভ উজনেককে নিয়ে ‘অ্যাপল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি জগতে বিপ্লব ঘটিয়ে দেন পারসোনাল কম্পিউটার বা পিসি ধারণা প্রতিষ্ঠা করে। এর আগে সাধারণ মানুষের কম্পিউটার বিষয়ে খুব স্বচ্ছ ধারণাও ছিল না। কিন্তু স্টিভ জবসের পিসি মানুষের ধারণাকেই পাল্টে দেয়। এই কম্পিউটারের নাম তিনি দেন ‘অ্যাপল’।

মূলত এর পরই সাধারণের কাছে পৌঁছতে থাকে কম্পিউটার। গড়ে ওঠে অনেক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান।  কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্টিভ জবস ১৯৮৫ সালের দিকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তবে ভেঙে না পড়ে পরে তিনি অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সার প্রতিষ্ঠা করেন।

তবে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্টিভ এখনো তথ্যপ্রযুক্তি জগতে নায়ক হিসেবেই আছেন।

২০০৫ সালের ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। সেটি এখনও বহু তরুণকে উজ্জীবিত করে।  দীর্ঘ সেই ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ পাঠকদের জন্য।

পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি। আমি কখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করিনি। সত্যি কথা বলতে, আজকেই আমি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছ থেকে দেখছি।

রিড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার ছয় মাসের মধ্যেই আমি পড়ালেখা ছেড়ে দিই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার আগে প্রায় বছর দেড়েক কিছু কোর্স নিয়ে কোনোমতে লেগেছিলাম।

কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছিলাম?

আমার বয়স যখন ১৭ বছর, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু আমি বোকার মতো স্ট্যানফোর্ডের সমান খরুচে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছিলাম। আর আমার নিম্নমধ্যবিত্ত বাবা-মার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিলো। ছয় মাস যাওয়ার পর আমি এর কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

জীবনে কী করতে চাই সে ব্যাপারে আমার তখনও কোনো ধারণা ছিল না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া কীভাবে আমাকে সাহায্য করবে সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। অথচ বাবা-মা তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় আমার পড়ার পেছনে ব্যয় করে চলেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং আশা করলাম, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

ওই সময়ে এটা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে, কিন্তু এখন পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় এটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। যখনই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিলাম, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই ডিগ্রির জন্য আমার অপছন্দের কোর্সগুলোও বন্ধ করে দিলাম।

২.

আমি খুব সৌভাগ্যবান। জীবনের প্রথমেই আমি আমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে পেয়েছি। বন্ধু উজনেককে নিয়ে যখন আমার বাবা-মার গ্যারাজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করি, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।

আমরা কঠিন পরিশ্রম করেছি। মাত্র ১০ বছরে অ্যাপল গ্যারাজের দুজনের কোম্পানি থেকে ৪ হাজার কর্মীর ২ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়।

আমার বয়স তখন ৩০। এর অল্প কিছুদিন আগে আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ‘ম্যাকিন্টোশ’ বাজারে নিয়ে আসি। আর ঠিক তখনই আমার চাকরি চলে যায়। কীভাবে একজন তার নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেকে চাকরিচ্যুত হয়?

অ্যাপল যখন অনেক বড়ো হতে লাগল তখন আমরা প্রতিষ্ঠানটি খুব ভালোভাবে চালাতে পারবেন এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবলাম। নিয়োগ দেয়াও হলো। প্রথম বছর সবকিছু ভালো যাচ্ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার সাথে আমার চিন্তাভাবনার বিভাজন স্পষ্ট হওয়া শুরু হলো। আর পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলো। ফলাফল, ৩০ বছর বয়সে আমাকে আমার কোম্পানি থেকে চলে যেতে হলো। আমার সারা জীবনের স্বপ্ন এক নিমিষে আমার হাতছাড়া হয়ে গেলো। ঘটনাটা আমাকে বেশ হতাশায় ডুবিয়ে দেয়।

পরের কয়েক মাস ধরে আমি বুঝতে পারছিলাম না কী করবো। মনে হচ্ছিলো আমি আগের প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছি; আমার হাতে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা আমি করতে পারিনি। একবার ভাবলাম ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই।

কিন্তু ধীরে ধীরে একটি বিষয় অনুভব করতে লাগলাম।

সেটা হচ্ছে, আমি আমার কাজকে এখনো ভালোবাসি! অ্যাপলের ঘটনাগুলো সেই সত্যকে এতোটুকু বদলাতে পারেনি। আমাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কিন্তু আমি এখনো আমার কাজকে ভালোবাসি। তাই আবার একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

প্রথমে তেমন কিছু মনে হয়নি। কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়াটা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা। বরং ভারমুক্ত হয়ে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল সময়ের যাত্রা শুরু করলাম।

পরবর্তী পাঁচ বছরে আমি নেক্সট এবং পিক্সার নামে দুটো কোম্পানি শুরু করি, আর প্রেমে পড়ি লরেন নামের এক অসাধারণ মেয়ের। তাকে আমি বিয়ে করি। পিক্সার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম এনিমেশন ছবি ‘টয় স্টোরি’ তৈরি করি। পিক্সার এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সফল এনিমেশন স্টুডিও।

এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। এবং নেক্সট-এ আমরা যে প্রযুক্তি তৈরি করি সেটা এখন অ্যাপলের বর্তমান ব্যবসার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে। অন্যদিকে লরেন আর আমি মিলে তৈরি করি একটা সুখী পরিবার।

আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটতো না যদি না আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হতাম। এটা ছিলো আমার জন্য খুব তেতো একটা ওষুধ। কিন্তু রোগীর জন্য সেটা দরকার ছিলো। কখনো কখনো জীবন তোমাকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। তখন বিশ্বাস হারাবে না। আমি নিশ্চিত, যে জিনিসটা আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো সেটা হচ্ছে আমি আমার কাজকে ভালোবাসতাম। তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে। তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে যেভাবে খুঁজে পেতে হয়, ভালোবাসার কাজটিকেও তোমাকে সেভাবেই খুঁজে পেতে হবে। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনই চমৎকার হবে যখন তুমি তোমার কাজকে ভালোবাসবে।

যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেও না। তুমি যখন তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে, তোমার মন আর সব গভীর জিনিসের মতোই গোপনে তোমাকে তা অনুভব করাবে। যে কোনো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতো সময় যাবে ততোই ভালো লাগবে।

৩.

তোমরা নতুন, কিন্তু তোমাদের সময়ও সীমিত। অতএব, অন্য কারো জীবনযাপন করে সময় নষ্ট করো না। কোনো মতবাদের ফাঁদে পড়ো না, অর্থাৎ অন্য কারো চিন্তা-ভাবনা দিয়ে নিজের জীবন চালাবে না। তোমার নিজের ভেতরের শব্দকে অন্যদের চিন্তা-ভাবনার কাছে আটকাতে দেবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা,  নিজের মনের কথা শোনার সাহস রাখবে। মন ঠিকই জানে তুমি আসলে কী হতে চাও। বাকি সব কিছুও ততোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যখন তরুণ ছিলাম তখন একটা পত্রিকা বের হতো, নাম ছিল ‘The Whole Earth Catalog’। এটা ছিল আমার প্রজন্মের বাইবেল। এ পত্রিকা বের করেছিলেন স্টুয়ার্ড ব্র্যান্ড নামে এক ভদ্রলোক। তিনি পত্রিকাটিকে কাব্যময়তা দিয়ে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। এটা ছিল ষাটের দশকের শেষ দিককার কথা। কম্পিউটার এবং ডেস্কটপ পাবলিশিং তখন শুরু হয়নি। তাই পত্রিকাটি বানানো হতো টাইপরাইটার, কাঁচি, এবং পোলারয়েড ক্যামেরা দিয়ে। পত্রিকাটিকে ৩৫ বছর আগের পেপারব্যাক গুগল বলা যায়। অনেক তত্ত্ব, তথ্যে সমৃদ্ধ আর মহৎ উদ্দেশ্যে নিবেদিত ছিল এটি।

স্টুয়ার্ট এবং তার দল পত্রিকাটির অনেকগুলি সংখ্যা বের করে। পত্রিকাটির জীবন শেষ হয় একটি সমাপ্তি সংখ্যা দিয়ে। এটি ছিল সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। আমার বয়স ছিল তোমাদের বয়সের কাছাকাছি।

সমাপ্তি সংখ্যার শেষ পাতায় একটা ভোরের ছবি ছিল। তার নিচে ছিলো এই কথাগুলি : ‘ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো’। এটা ছিল তাদের বিদায়বার্তা। ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো। আমি নিজেও সবসময় এটা মেনে চলার চেষ্টা করি। আজ তোমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছেড়ে আরো বড় জীবনের গণ্ডিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছো, আমি তোমাদেরও এটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি : ক্ষুধার্ত থেকো। বোকা থেকো।

Read More
Out of Line

বাংলা কম্পিউটিং আসলে কি

বাংলা কম্পিউটিং বলতে আমরা স্বাভাবিকভাবে বুঝি কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ বাংলায় করতে পারা। লেখা – পড়া তো থাকবেই, সেই সাথে ফাইলের নাম, ডাটাবেইজ, অনুসন্ধান জাতীয় জটিল কাজ করতে পারা যাবে অনেক সহজেই। আজ আমরা সেটা করতে পারি পৃথিবীর অন্য সব ভাষার পাশাপাশি।

ভারত উপমহাদেশের ভাষাগুলিকে কম্পিউটার বোদ্ধারা নাম দিয়েছেন “জটিল ভাষা” (Complex Language) এবং বাংলা ভাষা সেই গোষ্ঠির একটা সদস্য হওয়ায় কম্পিউটারে এই ভাষা স্থাপন করাতে অনেক কাঠ-খঁড় পুড়তে হয়েছে। কম্পিউটারে যে-কোনো ভাষার বহুমুখী ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট গঠন। যেমন: আপনি যদি QWERTY কি-বোর্ড ব্যবহার করেন (আমরা প্রতিদিনের ব্যবহারে যে ইংরেজী কী-বোর্ড লে-আউট ব্যবহার করি) তাহলে যে কম্পিউটারেই বসেই কাজ করেন না কেনো কী-বোর্ডের মাঝের লাইনের সর্ববামের কী চাপ দিলে a লিখা আসবে। বাংলা লিখার জন্য বাজারে বহুবিধ সফটওয়্যার থাকলেও সেগুলি নির্দিষ্ট কোনো গঠন ব্যবহার করতোনা বা এখনো করেনা। যেমন প্রশিকা/বিজয় দিয়ে লিখা একটি বাংলা ফাইল যদি অন্য একটি কম্পিউটারে নিয়ে খোলেন, যেখানে প্রশিকা/বিজয় বা তাঁদের ফন্ট নেই, তাহলে আপনি আবর্জনা ছাড়া কিছুই দেখতে পাবেন না। প্রচলিত সব সফটওয়্যারেরই একই অবস্থা। কম্পিউটারে ভাষার নির্দিষ্ট কোনো গঠন না থাকার কারনে এমনটি হয়ে থাকে।

বিদেশী অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার নির্মাতারা এই জাতীয় টাইপিং সিস্টেমগুলিকে বলে থাকেন চোরাই সিস্টেম (hacked system), কারন ইংরেজী অক্ষরগুলির স্থানে বাংলা লেখা (টাইপ) বসিয়ে দিয়ে বাংলা দেখানো হয়, কিন্তু কম্পিউটার মনে করছে যে আপনি ইংরেজীই লিখে যাচ্ছেন। আপনি যদি একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন এবং প্রশিকা/বিজয় কোনো অফিস স্যুটে বাংলা লিখে থাকেন, তাহলে দেখবেন যে আপনার লেখার নীচে লাল দাগ দিয়ে কম্পিউটার আপনাকে বলছে যে আপনি ভূল টাইপ করছেন, এবং মাঝে মাঝে আবার আপনার লেখা বানানকে সয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক করে দিতে গিয়ে আপনাকে বিপদে ফেলবে। প্রশিকা/বিজয় ব্যবহারকারীরা এটা অবশ্যই জানেন। এমনটি হবার একমাত্র কারণ যে কম্পিউটার মনে করে যে আপনি ইংরেজী লিখছেন। অবাক লাগলেও সত্য যে এই সফটওয়্যারগুলি এতদিন আমাদের ভাষার মেরুদন্ড হয়েছিলো এবং ভাবতে অবাক লাগে যে আমরা টাকা দিয়ে এই সব আবর্জনা কিনে ব্যবহার করেছি দিনের পর দিন।

কম্পিউটারে ভাষার একটি নির্দিষ্ট গঠন থাকার সুবিধাগুলি হলো আপনি যেখান থেকেই এই ভাষা ব্যবহার করেন, আপনি একই জিনিস ব্যবহার করবেন। যেমন আমি যদি ইংরেজীতে একটি ই-মেইল লিখে পাকিস্তানে পাঠাই, প্রাপক সেটা সঠিকভাবেই দেখতে পাবেন। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা ছিলোনা। মানুষের নির্দিষ্ট একটা গঠন আছে বলেইতো আমরা চোখে দেখলে বুঝতে পারি এটা মানুষ। নির্দিষ্ট গঠনের সুবিধাই হলো এটা।

২০০০ থেকে ২০০১ সালে’র মধ্যে ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম () এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্টেন্ডার্ডাইজেশন () এর যৌথ উদ্দ্যোগে ইউনিকোড ৩.০ সংস্করণে প্রথমবারের মতন বাংলা ভাষা যোগ করা হয়। সেইসাথে আমরা কম্পিউটারে ব্যবহারযোগ্য মোটামুটি একটা গঠন পেয়ে যাই। কিন্তু সমস্য হলো যে এটা ব্যবহারযোগ্য হবে কি না। কারন আমাদের বহুল ব্যবহৃত অক্ষর “ৎ” এখানে ছিলোনা এবং ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম আমাদের অনেক বিষয় পরিষ্কার করে বলে দেয়নি, যেমন: দাঁড়ি (।) কিভাবে আসবে। এসব নিয়ে দেশের পত্রপত্রিকায় অনেক কিছু লেখালেখি হলেও কেউ সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করেননি এগুলিকে সুধরাবার।

প্রথমবারের মত যখন ইউনিকোডের ঐ গঠন ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলো, তখন দেখা গেলো আরও অনেক সমস্যা। যেমন: অ্য, এ্য হচ্ছেনা, ৎ (খন্ড ত) লিখা যাচ্ছেনা ইত্যাদী। ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম আমাদের উক্ত বিষয়ে পরিস্কার কোনো নিতিমালা তৈরী করে দেয়নি সেই সময়ে। অনেকদিন সময় নিয়ে এবং অনেক গবেষনার মাধ্যমে বিষয়গুলির সমাধান করা হয়েছে। এখানে একটি মজার বিষয় হলো যে, আমাদের ভাষার অসফল বিষয়গুলি সমাধানের দায়িত্ব বড় বড় কোম্পানীর (যেমন মাইক্রসফট, এডোবি ইঙ্ক) হাতে থাকলেও বাস্তব সমাধান দিয়েছিলো কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ইউনিকোড কর্তৃক প্রদত্ত বাংলা ভাষার গঠন ব্যবহার করে প্রথম বাংলা ফন্ট (ফন্ট হলো কম্পিউটারে অক্ষর বা লেখা দেখার বা ছাপার জন্য বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি) তৈরী করেন “মুক্ত বাংলা ফন্ট” নামক একটি অলাভজনক দলের সদস্যরা। এরপর সেগুলির লক্ষ্য করে উন্নয়নের কাজ চালান সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিগুলো।

এর পরে ২০০৪ সালের শেষের দিকে আসে ইউনিকোড গঠন ৪.০, যেখানে অনেক পরিস্কার করে সব নিয়ম কানুন উল্লেখ করে দেয়া ছিলো। পরে গতবছর ইউনিকোড গঠন ৪.১-এ খন্ড-ত সহ যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে দেয়া হয়।

কম্পিউটারে বাংলা ভাষার নির্দিষ্ট ব্যবহারিক গঠন তৈরীতে আমাদের তেমন দেশের কোনো দৃষ্টান্ত নেই, এটা অনেক দুঃখজনক হলেও সত্য যে সব সমস্যাই সমাধান করেছেন বিদেশী লোকেরা। কয়েকজনের নাম আমার বলা উচিৎ হবে, তাঁরা হলেন ১: এ্যন্ডি হোয়াইট (যুক্তরাজ্য), ২: পল নেলসন (মাইক্রসফট, যুক্তরাষ্ট্র), ৩: ডঃ রবিন আপটন (আল্ট্রুইস্ট ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাজ্য), ৪: ডঃ গৌতম সেনগুপ্তা (হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত), ৫: প্রদীপ প্রাপিল (মাইক্রসফট, ভারত), ৬: এরিক মুলার (এডোবি ইঙ্ক, যুক্তরাষ্ট্র)। এই ব্যাক্তিরা আমাদের ভাষাকে কম্পিউটারে প্রনয়ণ করার বিষয়ে মারাত্বক ভূমিকা পালন করেছেন।

গত ৩০ জানুয়ারী ২০০৬ ইং তারিখে মাইক্রোসফট তাঁর বহুপ্রচলিত অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপি’র বাংলা চেহারা ছেড়েছে। মাইক্রসফট এটা ছেড়েছে আসলে পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করে। কিন্তু এর অনেক আগে আমাদের বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী দলা “অঙ্কুর” () লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের চেহারা বাংলায় করেছিলো। অঙ্কুরের এই প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত দেখে মাইক্রোসফটের মতন বড় কোম্পানি কিছুটা হলেও ভয় পেয়েছে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলা চেহারার উইন্ডোজ ছেড়েছে বাজারে।

আমাদের মাতৃভাষায় অপারেটিং সিস্টেম হলে আমরা বিভিন্ন দিক থেকে উপকৃত হবো। যেমন: প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই একটি শিশু কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে একজন দক্ষ ব্যবহারকারীর মতন। যে-কেউ যে-কোনো কাজ নিশ্চিন্তে করতে পারবে। কোথাও ঠেকে গেলে সাহায্যকারী ফাইল ব্যবহার করতে পারবে। আর এর সবকিছুই আজকে সম্ভব।

সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় আমাদের সফলতা আসতে অনেক দেরী হয়েছে। এই সফলতার পেছনে যারা কাজ করেছে বাড়ীর খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত কাজ করেছেন। তবে আজকে আমরা যা পেয়েছি, পরবর্তি প্রজন্ম আর কাউকেই দোষারোপ করবেনা। আজকে আমি যদি একটা বাংলা ইমেইল লিখি আমার আমেরিকার বন্ধুর কাছে (অবশ্যই ইউনিকোড গঠন ব্যবহার করে), সে সেটা কোনো সমস্যা ছাড়াই পড়তে পারবে। বাংলা এখন মুক্ত, বাংলা এখন সবার জন্য। বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু কম্পিউটার চালাতে আর কোনো সমস্যা হবেনা আগামী দিনে।

আমাদের ভাষা বাংলা, বাংলাই আমাদের অহংকার। আমরা এই ভাষায় কথা বলি এবং মোটামুটি সবখানে ব্যবহার করি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে কম্পিউটারের এই যুগে যেখানে কম্পিউটারে পৃথিবীর সব ভাষার একটা পুরনো অবস্থান আছে, বাংলা ভাষার অবস্থান সেই পর্যায়ে আসতে অনেক বেশী সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত কম্পিউটারে বাংলার একটা অবস্থান আমরা করে নিতে পেরেছি। সেজন্য আজ আমাদের অহংকার আরেক ধাপ বেড়েছে।

লেখকঃ
শরিকুল ইসলাম আজাদ – অমি

Read More
Linux

আমি কেন উবুন্টু নিয়ে লাফালাফি করি

ইদানিং আমি লিনাক্স; আরো সূক্ষ্ম করে বললে উবুন্টু নিয়ে বেশ মাতামাতি করছি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করি উবুন্টু প্রচার করতে। এই প্রচার করতে গিয়েই টের পেলাম লোকজনের মধ্যে কিছু জিজ্ঞাসা বারবার ঘুরে ফিরে আসে- কেন আমি উবুন্টুর প্রচার করি? উবুন্টু কি আমাকে এজন্য পয়সা দেয়? যদি পয়সা না দেয় তাহলে এভাবে প্রচার করে আমার কি লাভ? মজার ব্যাপার হচ্ছে এই প্রশ্নগুলো কিন্তু কোন লিনাক্স ব্যবহারকারীর মনে আসেনা। যারা উইন্ডোজ বা মাইক্রসফটের পণ্য ব্যবহার করে তাদের মনেই প্রশ্নটা আসে। এইবার নিশ্চয়ই ধাক্কা খেলেন! “যারা উইন্ডোজ বা মাইক্রোসফটের পণ্য ব্যবহার করে” — এর মানে কি? সবাইতো উইন্ডোজ ব্যবহার করে! নাহ, সবাই উইন্ডোজ ব্যবহার করেনা; এই যেমন আমি! আমি উইন্ডোজ ব্যবহার করিনা। আর আমার মত এরকম আরো অনেকেই আছেন। আর এ সংখ্যাটা কিন্তু দিন দিন বেড়েই চলেছে।

যাইহোক এবার উবুন্টু নিয়ে মাতামাতি করার কারনগুলো বলি।

প্রথমত, ক্যানোনিকাল হচ্ছে সেই কম্পানি যারা উবুন্টু নামের অপারেটিং সিস্টেমটা তৈরি করে, তারপর বিনামূল্যে সেটা সবাইকে বিতরণও করে। গুণে-মানে উবুন্টু উইন্ডোজ থেকে অনেক উন্নত, এটা শুধু আমার মতামত না যারা কম্পিউটার জিনিসটার কাজের ব্যাপার স্যাপারগুলো বুঝেন তারাও একবাক্যে একথা স্বীকার করেন। এখন একটা কম্পানি আমাকে বিনাপয়সায় একটা উন্নত অপারেটিং সিস্টেম দিচ্ছে, আমি সেটা ব্যবহারও করছি। বিনিময়ে আমারও তো কিছু দেয়া উচিত। এই বিনিময়টাই আমি দেই উবুন্টুর প্রচার আর প্রসার করে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম- বিনাপয়সায় উবুন্টু দিয়ে ক্যানোনিকাল আমার স্বার্থ দেখছে আর আমি উবুন্টুর প্রচার করে ক্যানোনিকালের স্বার্থ দেখছি। যে আমার স্বার্থ দেখে তার স্বার্থ তো আমাকে দেখতেই হবে নাকি!

দ্বিতীয়ত, পাইরেসি একটা বিশাল সমস্যা বাংলাদেশে। আমরা যেই চল্লিশ টাকার উইন্ডোজের সিডি কিনি, সেই সিডিটার আসল দাম কত জানেন? প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা। আমরা যে কথায় কথায় ফটোশপ বা ইলস্ট্রেটর নিজেদের পিসিতে ইন্সটল করে ফেলি সেগুলোর দাম হচ্ছে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার মত। মাইক্রোসফট অফিসের দামও কিন্তু প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার মত। তাহলে চিন্তা করুন তো এই যে আমরা চল্লিশ টাকা দিয়ে যেই সিডি/ডিভিডিগুলো কিনছি সেটার আসল মূল্য আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা যেগুলো কিনছি সেগুলো আসলে চোরাই কপি। আমরা চোরাই মোবাইল ফোন কিনিনা, চোরাই গাড়ি কিনিনা কিন্তু চোরাই সফটওয়্যার ঠিকই কিনছি। এমনও অনেকে আছেন যারা পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়েন, আল্লাহভীরু মানুষ, কিন্তু ব্যবহার করার সময় ঠিকই চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন। চোরাই জিনিস কিনে কি আমরা একজন চোরের সমান অপরাধ করছিনা? উপরন্তু টাকা দিয়ে কিনে আবার চোরকে উৎসাহ দিচ্ছি আরো সফটওয়্যার চুরি করার জন্য। এতে করে দেশের কম্পিউটার দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে চুরির জিনিস বিক্রি হচ্ছে, আর বেশি খোলামেলা হবার কারনে এটা যে বিশাল একটা অপরাধ সেটাও লোকজন টের পাচ্ছেনা (অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করছে)। ফলাফলস্বরূপ বাংলাদেশ সফটওয়্যার পাইরেসিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে, যেখানে পাশের দেশ ভারতের অবস্থান একচল্লিশতম। এটাতো দেশের প্রতি একধরনের অপমান। নিজের দেশের অপমান কার কাছেই বা ভালো লাগে? তাই যত বেশি উবুন্টু (বা লিনাক্স) ব্যবহার করা হবে ততই আমাদের উপর থেকে চোরের খেতাব সরে যেতে থাকবে। একজন বাংলাদেশী হিসেবে দেশের নাম উজ্জ্বল করাকে আমি নিজের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে দেখি। সেজন্যই লোকজনকে পাইরেসি বাদ দিয়ে ওপেনসোর্স সফটওয়ারের দিকে আসার আহবান জানাই।

তৃতীয়ত, ভাইরাস, সিস্টেম ক্র্যাশ, রিইন্সটলেশন, ডিফ্র্যাগমেন্ট — এইসব কঠিন কঠিন (!) শব্দগুলো উইন্ডোজের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। অথচ উবুন্টুতে এগুলোর কোনটাই নাই। তাই যখন দেখি যে আমার আশপাশে লোকজন এইসব ঝামেলাকে অবলম্বন করেই অসহায়ের মত কম্পিউটার জিনিসটা চালায়, তখন নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগে। আমি নিজে কত সুন্দর ঝামেলাহীনভাবে পিসি চালাচ্ছি, অথচ অন্যরা কত কষ্ট করছে! প্রতিনিয়ত তারা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করছে, হরহামেশা সিস্টেম ক্র্যাশ করে নীল রংয়ের স্ক্রিন আসছে, রুটিন করে উইন্ডোজ রিইন্সটল করছে। ফলে নিজে থেকেই তাদের বোঝাই যে এইসব কঠিন কঠিন শব্দগুলো ছাড়াও কম্পিউটার চালানো যায়। আর সেই কম্পিউটারও খুব ভালোভাবেই চলবে। তবে সেজন্য উইন্ডোজ বাদ দিয়ে উবুন্টু ইন্সটল করতে হবে। শুধুমাত্র যেচে এসে পরোপকার করার জন্যই তাদের কাছে আমি উবুন্টুর কথা প্রচার করি। এটা বিশ্বাস করা না করা আপনার ব্যাপার!

চতুর্থত, আমার নিজেরও কিছু স্বার্থ আছে। যত বেশি মানুষ উবুন্টু ব্যবহার করবে আমার নিজেরও ততবেশি সুবিধা হবে সবার সাথে সব কিছু শেয়ার করতে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেইঃ উইন্ডোজে যেমন এমএস অফিস সেরকম উবুন্টুতে আছে ওপেন অফিস। এমএস অফিসের .doc ফরম্যাট যেমন ঠিক সেরকম ওপেন অফিসে .odt ফরম্যাট। কিন্তু কাউকে কিছু লেখা পাঠাতে হলে আমাকে সেই .odt কে ওপেন অফিসেই .doc তে কনভার্ট করে পাঠাতে হয়, কারন সেই লোক উইন্ডোজ ব্যবহার করে। যাকে পাঠাচ্ছি সে যদি উবুন্টু ব্যবহার করত তাহলে আমাকে এই কষ্টটা করতে হতনা! তাছাড়া বেশি বেশি লোক উবুন্টু ব্যবহার করলে যেকোন সমস্যায় সাহায্য পাওয়া সম্ভব হবে। তাই এক্ষেত্রে নিজের কিছু স্বার্থও কাজ করে।
শুরুর প্রশ্নগুলোর উত্তর কি পেয়েছেন? আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশে উবুন্টু আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে সেটা খুবই ধীরে। সেজন্য প্রক্রিয়াটা সেভাবে চোখে পড়ছেনা। আমার প্রচারণায যদি এই প্রক্রিয়াটা আরেকটু তরান্বিত হয় তাহলে তো উপরি লাভ। এটা হয়তো বিশাল সাগরে এক বালতি পানি দেবার মত, স্থূলভাবে বোঝা না গেলেও সূক্ষ্মভাবে বোঝা যায়।

Read More
Linux

লিনাক্স ও ভাইরাসের সংক্ষিপ্ত জীবনী

অবশেষে উবুন্টুতে স্থায়ী হতে পেরে হাঁফ ছেড়ে বাচলাম। অন্তত এজন্য যে এই অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটলের পর পরই “your computer might be at risk” নামক বার্তাটা দেখায় না। বলে না এন্টিভাইরাস ইন্সটলের প্রয়োজনীয়তার কথা। কিন্তু বহুদিনের উইন্ডোজ ব্যাবহারের পর এরকম কথাবার্তা বিশ্বাস করতে মন চাইল না। আসলেই কি লিনাক্সে ভাইরাস হয় না বা নেই?

এই প্রশ্নটার সরাসরি উত্তর হ্যা এবং না দুটোই হতে পারে। সরাসরি উত্তরে যাবার আগে আমরা কম্পিউটার ভাইরাসের আক্রমনের দিকগুলো দেখি। সাধারনত ভাইরাসের আক্রমনের প্রধান শিকার হল আপনার আমার মত সাধারন হোম ইউজার রা। হোম ইউজের জন্য উইন্ডোজ নিঃসন্দেহে লিনাক্সের চাইতে অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং বালাই বাহুল্য যে উইন্ডোজ ইউজাররাই ভাইরাস,ট্রোজান বা ম্যালওয়্যারের মূল শিকার। অপরদিকে লিনাক্স ব্যাবহারকারীরা কখনো ভাইরাসের কবলে পড়েছে এমনটা কেউ কি কখনো শুনেছেন?  উত্তর “না”, তাহলে কি উইন্ডোজই ভাইরাসের মূল লক্ষ্য? লিনাক্স নয়? একটু ভাবুন, যারা উইন্ডজের ভাইরাস বানাতে হাজার হাজার ঘন্টা শ্রম দিচ্ছেন তারা চাইলেই লিনাক্সের দিকে নজর দিতে পারেন এবং লিনাক্সের দিকে নজর দেয়াটা ভাইরাস ছড়ানোর সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় কারণ বিশ্বের ৭০ ভাগ সার্ভার লিনাক্সে চলে আর এর যে কোন একটায় ভাইরাস ঢুকাতে পারলেই কেল্লা ফতে!

তাহলে ভাইরাস প্রোগ্রামার রা লিনাক্সের দিকে ঝুঁকছেন না কেন? উত্তর হল ইউন্ডোজ ভাইরাস নির্মাতাদের এত বেশি সুবিধা দিচ্ছে যে লিনাক্সের দিকে তাকানোর কোনো প্রয়োজনই পড়ছে না তাদের। কিভাবে এই সুবিধা দিচ্ছে ইউন্ডোজ?

উইন্ডোজ ভাইরাস প্রোগ্রামারদের কাজ সবচেয়ে সহজ করে দিয়েছে তাদের ওএস আর সকল থার্ড পার্টি সফটওয়্যারের কোড ক্লোজড সোর্স করে দিয়ে। আপনি কোনো সফটওয়্যারেরই কোড দেখতে পারবেন না এবং আপনি কখনই বুঝতে পারবেন না আসলে আপনি যে প্রোগ্রামটি চালাচ্ছেন তা ক্ষতিকর কিনা। এখন আপনি বলতে পারেন আপনি তো কম্পিউটার প্রোগ্রামার নন, আপনি কোডিং এর ক ও বুঝেন না, আপনাকে সোর্স দেখিয়েই বা লাভ কি? হ্যা কথা সত্যি, হোম ইউসারদের তো কোড বোঝার কথা না। তাহলে তারা কি করবে?

এখানেই আসে রিলায়্যাবল সোর্স এর ব্যপার। আপনাকে এমন কারো উপর নির্ভর করতে হবে যে কোড বুঝে এবং যে আপনার ব্যাবহারের জন্য বেছে নেয়া সফটওয়্যারটির কোড দেখে আপনাকে বলে দেবে যে, না, এই কোড নিরাপদ। উইন্ডোজে যখন চালাবেন, তখন কোড নিরাপদ কিনা বা সফটওয়্যার ক্ষতিকর কি না তা সবচেয়ে ভালো বুঝবে উইন্ডোজ এবং এখানেই ভাইরাস নির্মাতারা তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধাটা পেয়ে গেলো। আর তা হল উইন্ডোজ কখনোই তাদের ওএস এ চলবে এমন কোন থার্ড পার্টি সফটয়্যার এর কোড দেখে না। তার মানে ভাইরাস নির্মাতা যাই বানান না কেন সেটাকে একটা অক্ষতিকর প্রোগ্রামের ছদ্মবেশে যে কোনো উইন্ডোজ ব্যাবহারকারীর হাতে মোটামুটি সহজেই ধরিয়ে দিতে পারবেন।

ভাইরাস তা যতই ক্ষতিকর হোক না কেন সেটা কাজ করার জন্য প্রোগ্রামটাকে চলতে হবে। না চলে বসে থাকলে তো আর সেটা ভাইরাস হল না ! হ্যা এখানেও লিনাক্সের চাইতে উইন্ডোজেই সুবিধা।প্রথমত উইন্ডোজে ইউজার প্রিভিলেজ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ, অথবা ঝুকিটা জেনে বা না জেনে প্রায় সব ইউজারই অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে লগইন করে থাকেন, এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটর লগইন এ আপনি যা খুশি তাই করতে পারবেন অতএব আপনি একবার ক্লিক করেই ক্ষতিকর ভাইরাসটি ট্রিগার করে দেবেন এবং সেটি তার কাজ করতে থাকবে নিশ্চিন্তে। এছাড়া আরেকটি বিষয় হল উইন্ডোজ তার প্লাটফর্মে চলমান প্রোগ্রামগুলোকে সিস্টেম কমান্ড চালাতে দেয়, তার মানে আপনি একবার কোনো প্রোগ্রামকে আপনার সিস্টেমে চালাতে অনুমতি দিলে সেটি এরপর যা খুশি তাই করতে পারবে। এবং আপনি ভেবে দেখুন এটা এতই ভয়ঙ্কর হতে পারে যে আপনি হয়ত কোনো গান শোনার সফটওয়্যার ইনস্টল করলেন এবং সেটি মুহূর্তেই আপনার সব ডাটা হার্ডডিস্ক থেকে মুছে দিল এবং তখন আপনি কিছুতেই এটা থামাতে পারবেন না।

আচ্ছা, আমি আসল কথাটা এড়িয়ে যাচ্ছি কেন? ভাইরাসের জন্য তো এন্টিভাইরাস আছেই, তাহলে আর চিন্তা কি? হুম। কথা সত্য এন্টিভাইরাস আছে, কিন্তু সেটি কিভাবে ভাইরাস আর ভালো প্রোগ্রামের মধ্যে পার্থক্য করে বলুন তো? একটা ডাটাবেজের মাধ্যমে, যেটা নিয়মিত আপডেট করতে হয়। এখন নতুন কোন ভাইরাস যদি সেই ডাটাবেজে না থাকে তাহলে কখনোই এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম সেই ভাইরাসটা চিনবে না। এবং ভাইরাস ডাটবেজে অনুপস্থিতির জন্যই দেখবেন অনেকেই অভিযোগ করে অমুক এন্টিভাইরাস কিছুই পাইল না আর এইটা হাজারটা ভাইরাস পাইল। কিন্তু ভাইরাস পাওয়া আর না পাওয়ার জন্য যে এন্টিভাইরাস উইস করছেন সেটি নিরাপদ তো? বুঝলেন না? আপনি যদি প্রো ভার্সন ইউজ করেন তাহলে সেটা জেনুইন তো? না? তাহলেই হয়েছে! যে ডাক্তার রোগ সারাবে তার সার্টিফিকেটই জাল? অধিক সুবিধার আশায় এন্টিভাইরাস ক্র্যাক করে তো নিজেই খাল কেটে কুমির আনলেন। এই এন্টিভাইরাস যে আসলেই কাজ করছে কি করে বুঝবেন?

এন্টিভাইরাস কাজ করুক বা না করুক উইন্ডোজ তো নিয়মিত তাদের সিকিউরিটি আপডেট দিচ্ছে। আপনার তো নিরাপদ থাকার কথা? না, আপনি তবুও নিরাপদ নন। কারণ উইন্ডোজ নিরাপত্তা আপডেট দিচ্ছে তার সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে, সিস্টেমের আর কোন কিছু নিয়েই উইন্ডোজ আর মাথা ঘামায় না। ফলাফল যে লাউ সেই কদু। যতই সিকিউরিটি আপডেট দিয়ে সিস্টেম নিরাপদ করুক থার্ড পার্টি সফটওয়্যার গুলোর নিরাপত্তা ত্রুটি কখনোই উইন্ডোজের মাথাব্যাথার বিষয় না। তার মানে যতই আপডেট করান লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না, যে প্রোগ্রামগুলো ঝুকিপূর্ণ বা ভাইরাস তাদের পেছনের দরজা কিন্তু সবসময় খোলাই রয়ে গেলো।

এবং এজন্যই এত এন্টিভাইরাস, এত অটোরানব্লকার ব্যাবহার করার পরও আপনাকে মাসে দুবার সেটাপ দিতে হয়, তারপরো কয়দিন পরে ফাইল গায়েব হয়ে যায়, সিস্টেম স্লো হয়ে যায়, ব্রাউসারে খুশিমত পেজ খুলতে থাকে- মানে কম্পিউটারটা আপনার আর আপনি যে নিজেই সেটি চালাচ্ছেন সে বিষয়েই আপনার সন্দেহ দেখা দেয়।

আচ্ছা এবার অন্য দিকটা দেখি, লিনাক্সে কি হয়?

উইন্ডোজে ভাইরাসের প্রথম যে সুবিধার কথা বললাম সেটাই লিনাক্সে প্রধান অসুবিধা। কোড তো ওপেন, আপনি কি বানালেন যে কেউ দেখবে এবং কারো না কারো চোখে ধরা পড়বেই যে এটা কোড নয়, ব্যাবহারকারীকে ফাঁসানোর জন্য বানানো ফাঁদ ! আর তো আপনার ভাইরাস ডেভেলাপ করা হল না। যেটা গনমানুষের জন্য উন্মুক্ত সেখানে আপনি ক্ষতির চেস্টাও করতে পারবেন না কারণ কেউ না কেউ এই কোড দেখবেই এবং কোড যে ক্ষতিকর সেটা বুঝতে পারলে ভাইরাস বানানোর ইচ্ছা কখনই পূরন হবে না।

আচ্ছা ধরুন কারো চোখে পড়ল না যে ওটা একটা ভাইরাস কোড, বা ডেভেলপার কোনমতে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশ নিয়েই নিল। এরপর?

হ্যা এরপরের বাধাটাই সবয়ে বড়, আপনাকে তো উবুন্টু রেপো থেকে সফটওয়্যারটা নিতে হবে। এবং এখনেই ভাইরাস প্রোগ্রাম ধরা পড়বেই। রেপোতে থাকা সব প্রোগ্রামকে অনেক অনেক নিবিড় পর্যবেক্ষনের পরই রেপোতে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয় এমনকি আলফা, বেটা ফাইনাল সবগুলোই টেস্ট করা হয়। আলফা বা বেটা পর্যায়ের পর আর ডেভেলাপ না করায় অনেক ভাল ভাল সফটয়্যারও রেপো থেকে বাদ পড়ে। তার মানে আপনি কোড জানুন বা না জানুন আপনি সবচেয়ে নিরাপদ প্রোগ্রাম পাবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আচ্ছা ধরুন এতকিছুর পর ও কোন না কোন ভাবে আপনার পিসিতে ঢুকে গেল একটা ভাইরাস। এরপর? হ্যা তারপর আপনার পিসি ই তার মৃত্যুকূপ। কেন? কারন আগেই বলেছি ভাইরাস যদি কাজ না করে বসে থাকে তাহলে সেটি ভাইরাস কি করে হবে? আর এখানেই লিনাক্সে যত সমস্যা। লিনাক্স তো যে সে প্রোগ্রামকে যা তা করার অনুমতি দিয়ে রাখে নাই। তাহলে ভাইরাস কাজ কি করে করবে? ভাইরাস তো দুরে থাক, সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হলে আপনাকেই রুট অ্যাকসেস থাকতে হবে আর ভাইরাস প্রোগ্রাম তো থার্ড পার্টি মডিউল সেটাকে লিনাক্স কোন দুঃক্ষে রুট অ্যাকসেস দেবে? তার মানে লিনাক্স পিসিতে ঢুকলেই কার্যক্ষমতা একেবারেই শূন্য এবং অকার্যকর ভাইরাস মানেই মৃত ভাইরাস।

এবং এই মৃত্যু ভাইরাস,ম্যালওয়্যার সবকিছুর জন্যই খাটে কারন আর যাই হোক সিসেম কমান্ড চালানোর ক্ষমতা এই প্রোগ্রাম গুলোর নেই।

এরপর আসে সিস্টেম আপডেটের কথা। লিনাক্সে আপনার ব্যাবহার করা সকল সফটয়ারের যত্ন নেবার দায়িত্ব লিনাক্স নিজেই নিয়ে নিয়েছে। সিস্টেম আপডেটের পাশাপাশি বাদবাকি সফটওয়্যারের আপডেটও সময়মত আপনাকে লিনাক্স নিজেই দিয়ে দিবে, তার মানে আপনি সব সময় নিশ্চিত থাকতে পারেন যে সিস্টেম আপডেট হলেও অন্য কোন সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটির জন্য আপনি ঝামেলায় পড়বেন না।

এবং এখানেই ভাইরাস ডেভেলপারদের মহা সমস্যা। যত যাই করুক তারা লিনাক্সে সুবিধা করতে পারছে না কিছুতেই।

কিন্তু লিনাক্স কে কিন্তু ভাইরাস ডেভেলপার রা ইউজ করতে পারে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য। কিভাবে?

ধরুন আপনি আপনার ইমেইল এ আসা আপনার মিলিয়ন ডলার লটারি জেতার ডকুমেন্ট ফাইলটা লিনাক্সে নামালেন। আপনি কিন্তু জানেনই না যে এই ফাইলের মেটাডাটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভাইরাস কোড। আপনি সেটা খুললেন ওপেন অফিসে, উইন্ডোজের জন্য লিখা মেটাডাটার সিস্টেম কমান্ড লিনাক্সে কিছুতেই কাজ করবে না। অতএব আপনি সম্পুর্ন নিরাপদ। ভাইরাস আপনার পিসিতে এসেও কিছুই করতে পারল না।মজা না?

আসলে মজা না। কারণ এটা আপনার পিসিতে এসেছে আপনার ক্ষতি করার জন্য নয়, আপনি একটু পরেই আপনার উইন্ডোজ ব্যাবহারকারী যে বন্ধুটির কাছে ফাইলটি ফরোয়ার্ড করবেন সে ই ভাইরাসটির টার্গেট। আপনার লিনাক্স পিসিতে সম্পুর্ণ নিরাপদ একটি ফাইল আপনার বন্ধুর উইন্ডজকে মুহূর্তেই গুড়িয়ে দিতে পারে। অতএব, লিনাক্স ভাইরাস মুক্ত হলেও ব্যাবহারকারীর অসতর্কতা এটিকে ভাইরাস সঞ্চালনবান্ধব করতে পারে।

এরপরেও একটা কথা থেকে যায়, এন্টিভাইরাস কোম্পানিগুলো তাহলে লিনাক্সের জন্য এন্টিভাইরাস কেন বানাচ্ছে? হ্যা ওরা এন্টিভাইরাস বানাচ্ছে, তবে সেগুলো লিনাক্সের জন্য নয় বা লিনাক্স এর ভাইরাস ধরার জন্যও নয়, ওগুলো বানানোর মূল কারণ হল লিনাক্স সার্ভারে চলা বা হোস্ট করা উইন্ডোজের প্রোগ্রামগুলোকে ভাইরাস মুক্ত রাখা। এবং এখানেও আবার দেখুন লিনাক্সের উদারতা, নিরাপত্তার এই দর্শন ব্যাবসায়ী উইন্ডোজ কখনোই দেখাতে পারে না। কোন থার্ড পার্টি সফটওয়্যারের ঝুকি তারা কখনোই পরীক্ষা করে না বা এ সঙ্ক্রান্ত কোন দায় দায়িত্ব ও তারা নেয় না। অথচ লিনাক্সের সার্ভারে হোস্ট করা উইন্ডোজ প্রোগ্রামগুলো ঝুকিপূর্ণ কিনা সেটা আপনি চাইলেই লিনাক্সে বসেই করতে পারবেন এবং সার্ভারগুলো করছেও সেটা।

পরিশেষে, উবুন্টুতে এসে আমি অনেক নির্ঝঞ্ঝাট আছি। আমাকে হাজারটে সাইটে ঘুরে ঘুরে একটা সফটওয়ার খুজতে হয় না। খুব সহজেই আমি পেয়ে যাই সফটওয়্যার সেন্টারে। আমার ধারনা উইন্ডোজ এরকম একটি সফটওয়্যার সেন্টার বানালেও সেটি আপনার আমার কোন কাজে আসবে না, কারণ আমরা সেখান থেকে কিছুই নিতে পারব না। আমাদের গন্তব্য ক্র্যাকড আর পাইরেটেড সফটওয়্যারের ঝুকিপূর্ণ সাইটগুলোর দিকেই থাকবে সবসময়। আর ট্রায়াল ভার্শন নামিয়ে সেটিকে প্রো করতে আগে যে ঘন্টার পর ঘন্টা ইন্টারনেটের ঝুকিপুর্ন সাইটগুলতে ঘুরাঘুরি করতে হত তার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে কতটা নির্ভার লাগছে বোঝাতে পারব না।

আপনাদেরও বলি, মুক্তির পতাকাতলে আসুন। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বাদ নিন। কেন নিজের পিসিতে বাড়তে দেবেন ক্ষতিকর ভাইরাস? নির্ভার কম্পিউটিং এর পৃথীবি উন্মুক্ত রইল সবার জন্য।

(CC:BY-NC-SA লাইসেন্সের অধীনে প্রকাশিত।

Read More
1 5 6 7