আমার ডিপার্টমেন্টের বন্ধুগণ

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এরকম বিভাগের স্টুডেন্টদের মাথায় মনে হয় বিল্ট-ইন “পাগল টাইপ” সফটওয়্যারটি ইনস্টল করা থাকে।কিন্তু মজার কথা হলো আমাদের কারো মধ্যে এমন কোন সফটওয়্যার পাওয়া যায়নি।এতে অবশ্য খুশি হওয়ার কিছু নেই।কয়েক জনের মধ্যে এটি থাকলে তাতে কিছু মঙ্গল ও হয়।যাক সে কথা।এবার আমার বিভাগের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।আমার কাছে মানে সবচেয়ে নিকটবর্তী যে তার নাম রিয়াদ (ডাক নাম বি.বি.সি.) , তার হবি চাপা মারা।আর তার বড় একটা গুণ হলো সে সব জানে।আর নামটি শুনে নিশ্চয় সবার মনে হচ্ছে তিনি ছেলে।তাই না?আসলে ছেলে না মেয়ে সেই ব্যাপারে আমরাই কনফিউজড।
অপু (ডাক নাম ডি.জে.ফু.)., তার গার্ল ফ্রেন্ডের নাম “ইন্টারনেট”, সে তার সাথে ২৪ ঘন্টা ডেটিং এ ব্যাস্ত।আর এ বাবা গার্ল ফ্রেন্ড তো আমাদের ও আছে সে সেটা বুজতে চায় না।যাই হোক আমরা তার এই গভীর ভালবাসাকে অনেক শ্রদ্ধা করি।আসা যাক টেলেন্টদের দের কাছ।প্রথমেই রিমন (ডাক নাম র‍্যাম-অন), তার র‍্যাম টা অল টাইম সতেজ ও তরতাজা থাকে তাই সে এই নামটির উত্তরাধীকারি।ও হা তার গার্ল ফ্রেন্ডের নাম “লজিক”, প্রথম দিন শুনে তো টাসকি খেলাম।এটা কি কোন মেয়েয় নাম হওয়া সম্ভব?আপনারাই বলেন?আমাদের রিমন সবসময় সব জায়গায় তার গার্ল ফ্রেন্ডকে খুজে বেড়ায়।উন্নত ও বাধ্যগত প্রেমিক।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় ট্যালেন্টের কাছে।একটি ডেঞ্জারাস প্রানী ও আমাদের ক্লাসের একমাত্র মেয়ে-ছেলে (যদি ও কিছুদিন আগে নতুন একটা আমদানি হইছে), আর আকিকা দেয়া নাম অন্তরা।এই নামটি নিয়ে বেশ ভোগান্তি কারন ইংরেজি বানান টা হলো “Antara”.বলেন বানান যদি এরকম হয় তো ভোগান্তি তো হবেই।কেউ বলে আন্তারা কেউ আবার আন্তরা কেউ কেউ এন্ত্রা কেউ বা আবার অন্ত্রা।এ ভাবে বিভিন্ন রুপ ধারণ করতে করতে তার নাম হয়ে গেল এন্থ্রা।নামটি স্টার্ট করার কিছুদিন পর আবার শুরু হলো গরুর এন্থ্রাক্স।তাই শেষ পর্যন্ত এন্থ্রা নামটি “এন্থ্রাক্স” এ থামে।সবচেয়ে মজার কথা হলো তার বয়-ফ্রেন্ডের নামটা “বিএফসি”, বয় ফ্রেন্ড শব্দ তার সাথে নামটার কতো মিল।
ট্যালেন্ট পর্ব শেষ।এবার আসা যাক অন্যান্যদের কথায়।আমাদের মধ্যে আছে টুটুল।না না এস আই টুটুল না।এটা আমাদের নরমাল টুটুল।তার সবচেয়ে বড় গুণ তার মধ্যে মেয়েদের সবচেয়ে বড় গুণটি আছে।কি বলেন তো?পারলেন না।সেটা হলো “লজ্জা টুটুলের ভূষণ”, তার গার্ল ফ্রেন্ডের সংখ্যা বিস্তর তাই নাম প্রকাশ করা গেলনা।সে জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আমাদের মধ্যে আরও আছে শরীফ (ডাক নাম আহমেদ শরীফ), তার হবি পড়াশোনা।আছে ২ টা ইদুর মানে সাইদুর।একজন সাইদুর সব সময় খেলা-ধুলা এরেঞ্জ করে থাকে।যদি ও আজ তক একটা ও করতে পারে নাই।
আছে তুষার(ডাক নাম তুষু), গার্ল ফেন্ডের নামটা শুনতে চাইয়েন না।নির্ঘাত স্ট্রোক করবেন।
ফারাবি নামে একটা ছেলে আছে আমার খেয়ালই নাই।নামটা শুনলে একটু ভয় ভয় লাগে।কেমন জানি সব ফাইরা ফালাইব মনে হয়।তার ডাক নামটি ও কিছুদিন পর বিবিসি না হয় সিএনএন হয়ে যাবে।এগুলা না হলে টেন স্পোর্টস শিওর।
একটা মানিকজোড় এর কথা বলি এবার।”শুভ্র + সারোয়ার (সার্ভার)”, এরা দুজন আমাদের চেয়ার্স বয়।
সাব্বির কি আমাদের গুড বয় না ব্যাড বয় তা আজ ও জানতে পারলাম।আফসোস…..আর আমাদের আমদানি হওয়া নতুন প্রানীটার কথা তো বলা হলোনা।তার নাম মেহেনাজ আফরিন (ডাক নাম আরেফিন আন্টি)।
এইতো এই নিয়েই আমরা ড্যাফোডিলের সফটওয়্যার বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ।

“কারো মনে বিন্দুমাত্র ব্যাথা দিয়ে থাকলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।যে কোন প্রকার পরিবর্তন যুক্তি সাপেক্ষে গৃহীত হবে।কারো মানহানি হলে আমাকে জানান।সেটি ও পরিবর্তন অথবা মুছে ফেলা হবে।”

Leave a Reply