Category : Thoughts

Thoughts

The more you jump the more you will lose

I’m doing hard work and waiting for something permanent, I will wait more for a good scope if needed. I did lots and lots of temporary works and i hate this! I hate jumping here and there.

I believe, everyone should setup his mind first, then follow your own plan! don’t jump every now and then, don’t change your plan everyday. Trust me, the more you jump the more you will lose.

Read More
Thoughts

Path will learn you walking

প্রথম

ছোটবেলায় কলম খেলা ছিলো খুবই জনপ্রিয় খেলা। প্রায়ই ক্লাসের ১৫-২০ জন মিলে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে টুর্নামেন্ট শুরু হইতো, টিফিন পিরিয়ড সহ একবারে শেষ ক্লাস পর্যন্ত চলত এই টুর্নামেন্ট। টান টান উত্তেজনা আর প্রতিদিন এক এক জনের কলমের বাহার ছিলো দেখার মতো। কারো গ্রিপ ওয়ালা কলম, কারো মোটা বাইট্টা কলম, কারো মন্টেক্স জেল পেন, কারো ১০ কালারে লেখা যায় এমন কলম। যার যা ছিলো তা নিয়েই ফাইট হইতো। মজার ব্যাপার হলো আমার ছিল সবচেয়ে সাধারন ইকোনো ডিএক্স পেন। এই ইকোনো ডিএক্স নিয়ে দুরু দুরু বুকে ফাইটে নামতে হতো। আমার ই দুর্বলতা শক্তিতে পরিনত হতো না কি হতো তা বলতে পারিনা, তবে কিসের জোরে যেন এই ইকোনো ডিএক্স নিয়েই ১৫-২০ জনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতাম।

দ্বিতীয়

সারা দেশে যতগুলো ক্যান্টনমেন্ট আছে সবগুলোতেই ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল নামে একটা করে স্কুল আছে। এই স্কুল গুলো পাশেই থাকে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। বোর্ড স্কুল থেকে পাবলিক স্কুলের পড়াশোনার মান কয়েক গুন ভালো হয়। নিয়ম কানুন, শৃংখলা যা ই বলি না কেন সবদিক দিয়েই পাবলিক স্কুল এগিয়ে থাকে। আমার স্কুল ছিল বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল। ২০০৫-২০০৬ সালে এ+ ট্রেন্ড চালু হয়। ভালো ছাত্ররা তখন এ+ পায়। এ+ পেলেই সে যেন ধুম করে অনেক উপর লেভেলের ছাত্র হয়ে যায়। চলার পথে সবাই বেশ বাহবা দেয়। ঘরের বাবা / মা এ+ পাওয়া ছেলের নাম বলে গুনকীর্তন করে নিজের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহীত করে। কিন্তু পাবলিক স্কুল থেকেও যা ৭০-৮০ জন এ+ পাইলো ‘০৬ ব্যাচে আমাদের স্কুল থেকে পেল মাত্র একজন কি দুজন। বড়ই হতাশাজনক ঘটনা। ‘০৭ এ আমার এস এস সি। টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট যা মোটামুটি হলো তারপর ৩/৪ মাস বেশ ভালোভাবেই পড়াশোনা করে ‘০৭ এ আমি বাবা মায়ের সিল ওয়ালা এক্সামপল ছাত্র বনে যাই এ+ পেয়ে। ঘটনা শেষ।

তৃতীয়

ইউনিভার্সিটির ক্লাসমেটের কাছে ফটোগ্রাফি বিষয়ক ঝালাপালা কথা শুনতে শুনতে মনের মধ্যে কবে যে ফটোগ্রাফির বীজ বপন করেছিলাম তা আমার অজানা। সে একদিন ধুম করে একটা দামি ক্যামেরা কিনে বসল। আমি একটু হতাশ হলাম। এতো টাকা আমার নাই। তারপর অফার দিয়ে বসলো, চলো একসাথে ফটোগ্রাফি শিখি পাঠশালা থেকে। আমি আরো হতাশ। ব্যাটা কয় কি। ঢাল তলোয়ার ছাড়া যুদ্ধের ময়দানে যাইতে কয়। তারপর নয় ছয় চিন্তা করে ভর্তি হয়ে গেলাম। মাস দুয়েক নানা কিছু শিখলাম। তারপর যেন আর বাধ মানে না কবে ক্যামেরা কিনবো কবে ক্যামেরা কিনবো এই অবস্থায় দিন যেতে লাগলো। অন্যের ক্যামেরায় হাত দিয়ে মোটেও ভালো লাগতো না। মধ্যবিত্তদের এই এক জ্বালা। যাই হোক, মোটামুটি বছর খানেক অল্প অল্প করে বেশ কিছু টাকা জমিয়ে কিনে ফেললাম শখের ডিএসএলআর। তারপর থেকে চলছে আমার ফটোগ্রাফি যাত্রা। এক বছর অনেক সময়। অন্তত মন থেকে শখ মুছে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সময় বৈকি।

চতুর্থ

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ যখন ভর্তি হই তখন ২০১০। তখন না ছিল ক্লিক না ছিল ঘরে বসে বড়লোক হওয়ার অন্য কোন রাস্তা। ছাত্রবস্থায় টিউশনিই ছিল একমাত্র আয় রোজগারের মাধ্যম। কিন্তু এই টিউশনি জিনিসটা কোনদিনই করতে পারলাম না। আসলে মন থেকেও সায় দিতো না কেন জানি। প্রথম সেমিস্টার যাওয়ার পর অনলাইন শব্দ + জগতটার সাথে ভালো মতো পরিচিত হলাম। সমস্যা ছিলো আগ্রহ ছিলো প্রচুর কিন্তু তখন জানতাম না আসলে গুগুল থেকেই অনেক কিছু শেখা যায়। শেখার প্রবল আগ্রহ থেকেই নানা জনকে নক করতাম, প্রশ্নবান ছুড়তাম মোটামুটি। কিন্তু মাস না ঘুরতেই বুঝলাম আসলে মানুষ জন এতে বিরক্ত হয়। আর কেউ বিরক্ত হচ্ছে এটা ভেবে মানুষ জনকে জ্বালানু বন্ধ করে নিজেই নেমে পড়লাম। ওয়েব সম্পর্কে জানলাম, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে জানলাম, পড়লাম। ছোটখাট কিছু কাজ ও করলাম। ২০১০ সেপ্টেম্বর ১৪ ছিলো ওডেস্ক মার্কেটপ্লেসে আমার একাউণ্ট ক্রিয়েশন ডেট। ঠিক এক বছর পর তার মানে ২০১১ সেপ্টেম্বর ১৪ তারিখে প্রথম একটা প্রোজেক্ট সফল ভাবে শেষ করলাম। তারপর টানা দু বছর মার্কেটপ্লেস / মার্কেটপ্লেসের বাইরে মোটামুটি একশ / দেড়শ প্রোজেক্ট করি।

 

উপরের চারটি ঘটনাই ছোটবেলা থেকে আজকের আমি। ঘটনা গুলো লিখতে খুবই ইতস্তত লাগছিল। লেখার মাঝেও চিন্তা করছিলাম আর লিখবো কিনা। আসলে লেখা গুলো নিজেকে জাহির করা কিংবা খাটি বাংলায় ভাব জাতীয় কিছুর জন্য লেখিনি। নিজের থেকে আসলেই নিজেই শিক্ষা নিচ্ছি। প্রতিটি ঘটনার ই একটা বিষয়ে গভীর মিল হচ্ছে নিজের যা ছিলো তা নিয়ে হতাশ না হয়ে যুদ্ধ করা। ইকোনো ডিএক্স থেকে শুরু করে সাধারন একটি স্কুলে পড়া, আমার দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শখের ফটোগ্রাফি কিংবা প্রফেশনাল লাইফে নিজের জায়গা করে নেয়া কোন কিছুই আসলে একদিনে সম্ভব হয়নি। দিনের পর দিন সুযোগ সুবিধার অভাব, হতাশা নিজেকে গ্রাস করেনি সেটা বলে মিথ্যা বলবো না। তবে, নিজের জীবন থেকে চরম যে শিক্ষা গুলো পেলাম এটাকেই আশা করি বাকি কাজ গুলো, দায়িত্বগুলো পালন করে যাচ্ছি। ওভার নাইটে কিছু করা, রিসোর্স না থাকার হতাশা, সুযোগ সুবিধার অভাব আসলে আর আমাকে ভাবায় না। এসব নিয়ে ভাবলে কাজের কাজ তো আর হবে না। ছোট থেকে হাটি হাটি পা পা করে বড় হওয়ার প্রশান্তিই অন্যরকম।

“Start with what you have, just Start…path will learn you walking”.

Read More