জন্মদিনের ইতিকথা

আজ বটগাছের সাথে অনেক কথা। আজ ১৬ তারিখ। আজ নাকি আমার জন্মদিন। কিন্তু বাবার সাথে আজ কথা হয়নি। ছোটবেলা থেকে টানা ১২/১৩ বছরে আমি একটা জিনিসের সাথে প্রচন্ড অভ্যস্ত হয়ে গেছি সেটা হলো জন্মদিন ভুলে থাকা / জন্মদিন অত্যন্ত সাধারন ৮/১০টি দিনের মতো করে কাটিয়ে দেয়া।

আমরা যারা বাংলাদেশি তারা হয়তো একটা জিনিস মানবেন ৯৯ ভাগ স্কুলে তিনটা টার্ম এক্সাম হয়। ১২ মাসকে তিনটা টার্ম দিয়ে ভাগ করলে ৪ মাস করে হয়। তাই পরীক্ষাগুলাও সাধারনত হয় এপ্রিল, আগস্ট আর ডিসেম্বরে।

আমাদের ফ্যামিলিটা খুবই ঝামেলা মুক্ত একটা ফ্যামিলি। অনেক সুখী ও বলা যায়। আমরা তিন ভাই বোন। বড় আপু। আমি আর ছোট ভাই। আজকাল যদি কারো ছোট ভাই/বোন থেকে থাকে তাহলে তাদের নিশ্চয় বলে দিতে হবে না যে ক্লাসে ওয়ানে ই তাদের কি পড়ানু হয়। কতগুলা বই হয়। কি পরিমান টাস্ক এর উপর থাকে তারা। আমার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা দূভার্গ ক্রমে অনেক আগেই শুরু হইছে। না বর্তমানে যেমন প্রেসার তেমন কখনোই না। তবে পড়াশোনা ব্যাপারটা আমাদের পরিবারে অনেক সিরিয়াস একটা বিষয়। আর এই বিষয়ে আমিও অনেক অসহায়।

আমার জন্মদিন গুলো দূভাগ্য ক্রমে সারাজীবন ই পরীক্ষার মধ্যে পরত। ক্লাস ওয়ান থেকে টেন। এমনকি কলেজেও শান্তি পাইনি। অবশ্য ততদিনে জন্মদিন পালনের করার ব্যাপারটা আমার কাছে একেবারে পান্তাভাত হয়ে গেছে।

আমি কখনো বাসায় চিল্লাচিল্লি করতাম না যে এটা করবো ওটা করবো। করলে হয়তো অনেক কিছুই করা হতো। চিল্লাচিল্লি না করলেও আব্বু আম্মু এরেঞ্জ করতে চাইতো আগে। কিন্তু সবসময় আমি কিছু করি না এটা মোটামুটি একটা কন্সটেন্ট। তাই পরে আর কেউ এই ব্যাপারে জিজ্ঞাস করতো না। তবে আম্মু ভালো রান্নাবান্না করতো। খাওয়া দাওয়া হতো এই পর্যন্ত ই। আমার ছোট ভাইয়ের জন্মদিন অনেক ঘটা করে পালন করা হয় ওর ১ বছর বয়স থেকেই। পিচ্চি থাকতেই আমি খেয়াল রাখি যাতে ওর জন্মদিন আমার মতো হয়ে না যায়।

কলেজে ওঠার পর বন্ধুরা মিলে ছোট খাট পার্টির আয়োজন করা হইছিল। ওইদিন টার মাঝে মাঝে মনে পরে। যদিও অন্যকারো মনে থাকার কথা না। কারন টিফিট টাইমে ক্যান্টিনে অন্য আর কয়েকটা সাধারন দিনের মতোই পার করেছিলাম। তবে কিছু উইশ !! কিছু দুষ্টামি আজ ও যেন চোখে লেগে আছে !!
সাধারনত সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর ঘটনা ছিল যেবার প্রথম গিফট পাই। আমার জন্মদিনের গিফট গুলো একেবারে হাতেগুনা। কারন, পার্টি/ ছোটখাট এরেঞ্জমেন্ট না করলে যা হয় আর কি !! তবে প্রিয় মানুষ গুলো তো আর এসবের জন্য করে না। সে কারনে গিফট এর কৌটাটা ফাকা না। তো, আমাকে যখন এক বন্ধু যখন গিফটটা দিলো আমি নিতে চাচ্ছিলাম না। আমার মাথায় নাই যে গিফট নিতে হয়। পরে অবশ্য নিলাম। যথেষ্ট লজ্জা ও পেলাম এই কারনে যে নিতে চাচ্ছিলাম না। ওকে যে সাধারন ধন্যবাদ দিবো তা ও অবশ্য দেয়া হয় নাই। ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

আজ ও এটা অভ্যাসে পরিনত হয়নি। কেউ গিফট দিলে এত বিব্রত হই যেন বেডরুমে নতুন বউ আর স্বামী বসে আছে আর হঠাৎ করে দরজা দিয়ে কেউ ঢুকে পরলো। তবে আস্তে আস্তে মনে হয় জংলী থেকে মানুষ হচ্ছি। গত কয়েক বছর ছোটখাট অন্তত কিছু করা হয়। কারন এখন আর স্কুলে পড়ি না। অবশ্য এখন অনেকে হয়তো বলবে যে পরীক্ষা থাকে তো কি হয়, আমরা মনে হয় করি নাই। তাদের একটা বলবো, আসলে এই ব্যাপারটা একটা মুখলোকানু ছেলের কাছে অনেক কিছু। আপনি বুঝবেন না।
আজকের কথা আর কি বলবো, আজ যেন আবার স্কুলে ফিরে গেলাম আমি !

সারারাত নিঘুর্ম কাটালাম সকালে বের হতে হবে এই জন্য। এক আঙ্কেল এর সাথে দেখা করে আসলাম। তারপর ১১ টায় ভার্সিটিতে আসলাম। মাথা ব্যাথা আর ঘুমে মোটামুটি অবস্থা খারাপ। তারপর শুনি একটা ক্লাস হবে না। ১ টায় শুরু। কি আর করা। বসে থাকলাম। অনেকে উইশ করলো। এক বন্ধু ফুলদিল। আর এক বন্ধু একটা টি শার্ট। ক্লাস শুরু হলো। অনেক ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ক্লাস করলাম এর পরীক্ষা দিলাম। সব শেষে বিকাল সাড়ে চারটা।

বডি আর ঘাড় মনে হচ্ছে আলাদা আমার কাছে। খুব ইচ্ছা ছিলো সবাই না হোক কিছু বন্ধু যারা ছিল তাদের নিয়ে একটু মজা করবো। অন্তত ছোট একটা আড্ডা। সেটাই আমার কাছে অনেক। কিছুই হলো না। একজনের জন্য সাথে সাথে চলে যেতে হলো। যেয়ে কি হলো !! কিছুই হলো না। ১০ মিনিট কথা বললাম এই যা। তারপর বাসায় এসে ঘুম। ঘুম থেকে উঠে তারপর এই বসলাম এখন।

অন্ধকার রাতে তাঁরা দিকে চেয়ে আমি ভাবি, Nothing special … কথাটার মর্ম আমি ছাড়া সম্পূর্ন রূপে কে বুঝবে। আছে কি কেউ ??

Leave a Reply